লারাক দ্বীপে ইরানের দুই উৎক্ষেপণযন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

 প্রকাশ: ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

লারাক দ্বীপে ইরানের দুই উৎক্ষেপণযন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববারের এই হামলা জুলাইয়ের শেষ দিকের পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত হামলা বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যদের হরমুজ প্রণালিতে রকেট ও সমুদ্র মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। এরপরই লারাক দ্বীপে থাকা দুটি উৎক্ষেপণযন্ত্রে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। তেহরান এর ‘জবাব ও শাস্তি’ দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মার্কিন ড্রোন থেকে হামলাটি চালানো হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে অথবা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌকা সেখানে মাইন পেতে রাখলে সেটি ধ্বংস করা হবে বলেও ইরানকে সতর্ক করেছিলেন তিনি।

জুলাইয়ের শেষ দিকের পর ইরানে আর কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ অনেকটা অচলাবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই ইরানকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এরই মধ্যে ইরান যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ। চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।