তুরস্কের বিজয় দিবসে এরদোয়ানকে সৌদি নেতাদের শুভেচ্ছা

 প্রকাশ: ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

তুরস্কের বিজয় দিবসে এরদোয়ানকে সৌদি নেতাদের শুভেচ্ছা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তুরস্কের বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, পৃথক বার্তায় বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ এরদোয়ানের সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তুরস্কের সরকার ও জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তাঁরা।

প্রতি বছর ৩০ আগস্ট তুরস্কে বিজয় দিবস বা ‘জাফের বায়রামি’ পালিত হয়। ১৯২২ সালে ডুমলুপিনার যুদ্ধে দখলদার গ্রিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তুর্কি বাহিনীর চূড়ান্ত বিজয়কে স্মরণ করে দিনটি পালন করা হয়।

তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পরিচালিত ‘গ্রেট অফেনসিভ’ বা ‘বুইউক তারারুজ’-এর শেষ পর্যায়ের যুদ্ধ ছিল ডুমলুপিনার। মুস্তাফা কামাল পাশার নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালিত হয়। পরে তিনি মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক নামে পরিচিত হন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল দখল ও ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হলে তুর্কি স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। ডুমলুপিনারে বিজয়ের পর পশ্চিম আনাতোলিয়ায় তুর্কি বাহিনীর অগ্রযাত্রা দ্রুত বাড়ে।

এর কয়েক দিনের মধ্যে ইজমির মুক্ত হয়। এর মধ্য দিয়ে গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যকার যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে যায়।

এই সামরিক বিজয় মিত্রশক্তির সঙ্গে আলোচনায় আঙ্কারার অবস্থানও শক্তিশালী করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯২২ সালে মুদানিয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং ১৯২৩ সালে লুসান চুক্তি হয়।

লুসান চুক্তির মাধ্যমে আধুনিক তুরস্কের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার ভিত্তি তৈরি হয়। একই বছরের ২৯ অক্টোবর তুরস্ক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথও সুগম হয়।

১৯২৩ সালে স্থানীয়ভাবে প্রথম বিজয় দিবস পালন করা হয়। ১৯২৬ সালে দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এটি তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপনের দিন।

তুরস্কজুড়ে এবং বিদেশে দেশটির কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও দিনটি বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। সামরিক একাডেমির সমাবর্তন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পদোন্নতি এবং আঙ্কারায় আতাতুর্কের সমাধিসৌধ আনিতকাবিরে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে।