সংবাদ শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমাতে নতুন আলোচনায় ব্রাজিল লুলা–ট্রাম্প ফোনালাপের পর আবারও আলোচনার টেবিলে দুই দেশ

 প্রকাশ: ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমাতে নতুন আলোচনায় ব্রাজিল    লুলা–ট্রাম্প ফোনালাপের পর আবারও আলোচনার টেবিলে দুই দেশ ছবি-সংগৃহীত

শাহনুর রুমেন | সাও পাওলো (ব্রাজিল)

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অতিরিক্ত শুল্কের চাপ কমাতে আবারও আলোচনার টেবিলে বসেছে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন ব্রাজিলের উন্নয়ন, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা বিষয়ক মন্ত্রী মার্সিও এলিয়াস রোসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার। আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর আরোপিত মার্কিন শুল্ক এবং এর প্রভাব কমানোর সম্ভাবনা। 

ব্রাজিলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের হার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মোট ৩৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশের অতিরিক্ত শুল্কের পাশাপাশি আরও ১২.৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। ব্রাসিলিয়া মনে করে, এই উচ্চ শুল্ক দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর। 

আলোচনায় ব্রাজিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো—বর্তমানে শুল্কের বাইরে থাকা পণ্যের তালিকা আরও বাড়ানো। পাশাপাশি অতিরিক্ত শুল্কের হার কমানোর পথও খুঁজছে দেশটি।

তবে আলোচনার শুরুতেই বড় কোনো সমঝোতা হবে—এমন প্রত্যাশা করছে না ব্রাজিল সরকার। দেশটির অবস্থান, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান করা সম্ভব হলেও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলোতে ব্রাজিল সহজে ছাড় দিতে চায় না। 

ব্রাজিল এরই মধ্যে অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইন (Lei da Reciprocidade Econômica)-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এই প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের অর্থ নয়; এর আগে নির্ধারিত আইনগত ও অর্থনৈতিক মূল্যায়নের ধাপ রয়েছে। 

দুই দেশের এই নতুন আলোচনা এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন ব্রাজিল–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম কঠিন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লুলা ও ট্রাম্পের ফোনালাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগের পথ আবার খুললেও, শুল্ক নিয়ে বাস্তব অগ্রগতি পেতে আরও কয়েক দফা আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে। 

ব্রাজিলের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় উচ্চ শুল্ক রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে ব্রাসিলিয়া এখন একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় পারস্পরিক ব্যবস্থার পথও খোলা রাখছে।

এখন নজর থাকবে পরবর্তী বৈঠকগুলোর দিকে। শুল্কের হার কমানো, আরও ব্রাজিলীয় পণ্যকে ছাড়ের আওতায় আনা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে আগামী আলোচনা কতটা অগ্রগতি আনতে পারে—সেটিই হবে মূল বিষয়।