খরায় বাঘ মশার দাপট কম, সেপ্টেম্বরে ফিরতে পারে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তীব্র তাপপ্রবাহ আর দীর্ঘ খরায় স্বস্তি মিলেছে ফ্রান্সে-এ গ্রীষ্মের শুরুতে কমেছে বাঘ মশার (টাইগার মশা) সংখ্যা। গবেষক ও মশা নিয়ন্ত্রণকর্মীদের ফাঁদে ধরা প্রাথমিক তথ্যেও মিলেছে সেই ইঙ্গিত। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। বৃষ্টি ফিরলে সেপ্টেম্বরেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বাঘ মশা-এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাঘ মশার বিস্তার কমার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মতো মশাবাহিত রোগের সংক্রমণও এবার তুলনামূলক কম। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা সান্তে পাবলিক ফ্রান্সের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মূল ভূখণ্ডে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ জন।
এর মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রিনিয়াক-এ-মারকাম্প এলাকায় ১৬ জন এবং সাঁ-আমাঁ-সুর-তুল এলাকায় আটজন আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন চারজন।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ছড়াতে পারে এমন মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন আরও ১৮ জন। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম।
২০২৫ সালের একই সময়ে ফ্রান্সে এমন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৮০। এর মধ্যে শুধু চিকুনগুনিয়াতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৫৪ জন।
তবে এবার সংক্রমণ কমে যাওয়ার পেছনে শুধু বাঘ মশার সংখ্যা কমে যাওয়াকেই দায়ী করছেন না গবেষকরা। রিইউনিয়ন দ্বীপে গত বছর ছড়িয়ে পড়া বড় ধরনের চিকুনগুনিয়া মহামারি শেষ হয়ে যাওয়াও এবার আক্রান্তের সংখ্যা কম থাকার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরে বদলে যেতে পারে চিত্র
চলতি গ্রীষ্মে অতিরিক্ত তাপ আর দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া বাঘ মশার জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পানির ঘাটতি থাকায় মশার বংশবিস্তারের সুযোগও কমেছে।
কিন্তু আবহাওয়া বদলালেই চিত্র পাল্টে যেতে পারে। বৃষ্টি শুরু হলে ছোট ছোট পানির আধার তৈরি হবে, যা বাঘ মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
গবেষক ও মশা নিয়ন্ত্রণকর্মীদের আশঙ্কা, সেপ্টেম্বর নাগাদ বৃষ্টি ফিরে এলে মশার সক্রিয়তা দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতে পাওয়া স্বস্তি সাময়িক হয়ে আবারও ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।