ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন হামলার তদন্ত বন্ধে মিত্রদের নিন্দা

 প্রকাশ: ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন হামলার তদন্ত বন্ধে মিত্রদের নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজায় ত্রাণবাহী গাড়িবহরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত না করার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। তিন দেশ এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছে।

শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশ তিনটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ত্রাণকর্মীদের ওপর ড্রোন হামলার ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা ইসরায়েলের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত ‘খুব কম এবং খুব দেরিতে’ নেওয়া হয়েছে। হামলায় নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি পাওয়ার অধিকার রাখে এবং তাঁদের হয়ে উত্তর খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শেষ করে ফেরার পথে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের গাড়িবহরে ইসরায়েলি হামলায় সাতজন ত্রাণকর্মী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন ব্রিটিশ নাগরিক, একজন মার্কিন-কানাডীয় দ্বৈত নাগরিক, একজন পোলিশ, একজন অস্ট্রেলীয় এবং একজন ফিলিস্তিনি ছিলেন।

পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও শুক্রবার আলাদা বিবৃতিতে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে ‘খুবই হতাশ’ বলে জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তদন্ত না করার ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটি ওয়ারশতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়াও ক্যানবেরায় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই হামলাকে ‘মর্মান্তিক ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। কিন্তু বুধবার তারা জানায়, সেলিব্রিটি শেফ হোসে আন্দ্রেস প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের কর্মীদের হত্যার ঘটনায় নতুন করে তদন্ত করা হবে না।

এই সিদ্ধান্ত আসে গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ১৫০টি ঘটনার পর্যালোচনার পর। ওই পর্যালোচনার মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের হত্যাকাণ্ডও ছিল।

ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের কর্মীদের ওপর হামলাটি বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। গাজায় ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তখন জোরালো হয়ে ওঠে।

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবিকতা দিবসে ইসরায়েল তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় বিষয়টি আরও ‘নিন্দনীয়’ হয়েছে। ওই দিন বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তাকর্মীদের সাহস ও আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনও ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে ‘সত্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটি হামলার একটি স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে। তাদের যুক্তি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজের কর্মকাণ্ডের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করতে পারে না।

যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডটি বলেছেন, তাঁর সরকার এ ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে উত্তর পাওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রাখবে।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement