জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব দৌড়ে এগিয়ে গায়ানার রদ্রিগেস বিরকেট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে এগিয়ে গেছেন গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রদ্রিগেস বিরকেট। শুক্রবার (২১ আগস্ট) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটে তিনি আটটি ‘উৎসাহজনক’ ভোট পেয়েছেন। তাঁর পেছনে রয়েছেন কোস্টারিকার কূটনীতিক রেবেকা গ্রিনস্প্যান ও আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি।
নিরাপত্তা পরিষদের আগস্ট মাসের সভাপতি ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিনা মার্কুস লাসেন ভোট শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভোটটি বাধ্যতামূলক নয় এবং এর মাধ্যমে মূলত প্রার্থীদের প্রতি ১৫ সদস্যের পরিষদের সমর্থনের মাত্রা যাচাই করা হচ্ছে।
ফলাফল অনুযায়ী, রদ্রিগেস বিরকেট আটটি ‘উৎসাহজনক’, তিনটি ‘নিরুৎসাহজনক’ ভোট পেয়েছেন। চার সদস্য কোনো মতামত দেননি। গ্রিনস্প্যান ও গ্রোসি দুজনই সাতটি করে ‘উৎসাহজনক’ ভোট পেয়েছেন। তবে গ্রোসি ছয়টি ‘নিরুৎসাহজনক’ ভোট পেলেও গ্রিনস্প্যান পেয়েছেন চারটি।
জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছিলেন গ্রিনস্প্যান। দ্বিতীয় দফায় রদ্রিগেস বিরকেট তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন।
মহাসচিব পদের দৌড়ে আরও রয়েছেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি ইকুয়েডরের মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেত, উগান্ডার কূটনীতিক ওলারা ওতুননু এবং ইকুয়েডরের কূটনীতিক ইভন এ-বাকি।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্বে আছেন। তাঁর দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়াদের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে এখন পর্যন্ত কেউ দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করেননি।
নিরাপত্তা পরিষদের গোপন এই অনানুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন যাচাই করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রার্থীসংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। এরপর নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করে। সাধারণত পরিষদ সেই সুপারিশই অনুমোদন করে।
আনুষ্ঠানিক ভোটে কোনো প্রার্থীকে এগোতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত নয়টি ভোট প্রয়োজন। তবে পাঁচ স্থায়ী সদস্য-যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের-যেকোনো একটি দেশ ভেটো দিলে সেই প্রার্থীকে আটকে দেওয়া সম্ভব।
মহাসচিব নির্বাচনের আগে আরও কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট হতে পারে। পরবর্তী দফাগুলোতে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা ভিন্ন রঙের ব্যালট ব্যবহার করবেন। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, কোনো প্রার্থীকে স্থায়ী সদস্যদের কেউ ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট দিয়েছেন কি না।
নতুন মহাসচিবের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিশ্ব রাজনীতিতে জাতিসংঘের অবস্থান পুনরুদ্ধার করা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমালোচনা বেড়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, গাজা যুদ্ধ ও ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও সংকট ঠেকানো বা শেষ করতে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে পরবর্তী মহাসচিবকে বিভক্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মধ্যে জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব ধরে রাখার কঠিন দায়িত্ব নিতে হবে।
সূত্র: আলজাজিরা