প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের পাঁচ কর্মীকে সন্ত্রাসী সাজা নয়

 প্রকাশ: ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের পাঁচ কর্মীকে সন্ত্রাসী সাজা নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের পাঁচ কর্মীকে সন্ত্রাসবাদ আইনে সাজা দেওয়া হবে না বলে রায় দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালে একটি বার্কলেস ব্যাংকের শাখায় ভাঙচুরের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত এই পাঁচজনের সাজা আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রেস্টন ক্রাউন কোর্টে বিচারক রবার্ট আলথাম রায়টি ঘোষণা করেন। আদালতের বাইরে এ সময় জড়ো হওয়া তাঁদের বহু সমর্থক উল্লাস করেন এবং ফিলিস্তিনপন্থী স্লোগান দেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্নলি শহরে বার্কলেসের একটি শাখায় ২ লাখ ১২ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ডলার) ক্ষতি করার দায়ে গত জুনে ব্রেন্ডন ও’হ্যাগান, আমান্ডা কেলি, হমিরা আতীকনিসার, মোহাম্মদ মালিক ও ৭০ বছর বয়সী আলমা ইয়ানিভকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসে বার্কলেসের বিনিয়োগের প্রতিবাদে তাঁরা ব্যাংকটির শাখায় হামলা চালিয়েছিলেন। জানালা ভাঙার পাশাপাশি ভবনে লাল রং ছিটানো হয়।

রায়ের পর পাঁচ কর্মী যৌথ বিবৃতিতে বলেন, আদালত তাঁদের সন্ত্রাসী হিসেবে সাজা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁরা ‘অত্যন্ত স্বস্তি’ পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা শুধু অপরাধমূলক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন; বিচার চলাকালে তাঁদের বা জুরিকে জানানো হয়নি যে দোষী সাব্যস্ত হলে সন্ত্রাসী হিসেবে সাজা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

আলমা ইয়ানিভের ছেলে মোহাম্মদ মালিকের মা ডোভ মালিক আদালতের রায়কে ‘আমাদের, ফিলিস্তিন এবং প্রতিবাদের বিজয়’ বলে অভিহিত করেন।

তবে এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নটি বিচার চলাকালীন নতুন করে সামনে আসে। তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করার সময় প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। পরে বিচারক ফিলিপ প্যারি আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জানান, তিনি অপরাধটির সঙ্গে ‘সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতা’ ছিল কি না, তা বিবেচনা করতে চান।

এর আগে জুনে ব্রিস্টলের কাছে ফিল্টনে এলবিট সিস্টেমসের একটি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের চার কর্মীকে সন্ত্রাসী হিসেবে সাজা দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের প্রতিবাদের প্রায় দুই বছর পর লন্ডনের উলউইচ ক্রাউন কোর্টে ওই সাজা দেওয়া হয়।

আইনজীবী রাজ চাডা বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতা’ সংক্রান্ত আইন বহু পুরোনো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা প্রয়োগের নজির প্রায় নেই এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের মামলাতেই এটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

চাডার মতে, সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে নিষিদ্ধ করার আগের কর্মকাণ্ডের জন্য প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের কর্মীদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর অভিজ্ঞতায়, সরাসরি প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডে যুক্ত সংগঠনের বিরুদ্ধে এ ধরনের আইনের ব্যবহার ‘খুবই অস্বাভাবিক’।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সরকার প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করে। এর ফলে সংগঠনটি আল-কায়েদা ও আইএসআইএলের মতো একই আইনি শ্রেণিতে পড়ে।

মানবাধিকার সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরিসের দাবি, নিষেধাজ্ঞার পর প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থনের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের অনেকের বয়স ৬০ বছরের বেশি। লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে বারবার আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতেও বহু গ্রেপ্তার হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের প্রধান কেরি মস্কোগিউরি শুক্রবারের রায়ের পর প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, সরাসরি প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক পরিসরের সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা এবং প্রতিবাদের অধিকার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত সরকারের।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement