শক্তির অবস্থান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ চান পেজেশকিয়ান

 প্রকাশ: ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

শক্তির অবস্থান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ চান পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে তাঁর দাবি, তেহরান এখন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং সেই অবস্থান থেকেই যুদ্ধ শেষ করা উচিত।

শুক্রবার চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা শক্তি ও মর্যাদার অবস্থানে আছি। তাই এখনই যুদ্ধের অবসান ঘটানো ভালো।’ তাঁর দাবি, বিশ্বজুড়ে সবাই ইরানের বিজয় স্বীকার করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীন। এদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে জুনে করা সমঝোতা স্মারক নিয়ে দেশের কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতাদের সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ওই সমঝোতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ওই চুক্তিতে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দেয়-এমন একটি ধারাও দেখাতে পারবে না সমালোচকেরা। তাঁর ভাষায়, সমঝোতায় ইরানের নয়, বরং অন্য পক্ষের জন্যই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছিল।

তবে সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরও ইরানের সামরিক নেতৃত্ব নতুন হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহিকে উদ্ধৃত করে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যেকোনো নতুন হুমকির ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা

এদিকে শুক্রবার ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোনে কথা বলেছেন। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংলাপ ও আলোচনা পুনরায় শুরুর উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন।

তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আংশিকভাবে বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রণালিটির দক্ষিণাংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজের গোপন বহরকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে নিচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ইরানের আলোচনায় আগ্রহ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বিকল্প সীমিত হয়ে এসেছে কি না, ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দেখছি কী হয়।’

ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিসহ পুরো অঞ্চলটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তাঁর দাবি, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে সঠিক চুক্তির জন্য তারা এখনো প্রস্তুত নয়।

ইরানকে যেকোনো ধরনের ‘জীবনরেখা’ দেওয়া দেশের বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

এর মধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানের সরকারকে ‘ধসিয়ে’ দেবে। আগামী সোমবার ট্রেজারি বিভাগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত জানাতে পারেন। যুদ্ধ ছয় মাসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এ পদক্ষেপ সামরিক চাপের বদলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে মার্কিন পরিকল্পনার নিন্দা করেছে। তেহরান ওয়াশিংটনের পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকারীদের বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হওয়া উচিত।

চীনও মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement