নিউইয়র্ক ক্যাপিটলে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

 প্রকাশ: ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

নিউইয়র্ক ক্যাপিটলে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালিয়ে আইনপ্রণেতাদের হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রতি আনুগত্য প্রকাশের পর ওই নারী বিস্ফোরক সংগ্রহ করেছিলেন।

৩৫ বছর বয়সী জেসিকা বোয়িকে ‘সন্ত্রাসবাদে বস্তুগত সহায়তা’ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।

মার্কিন বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ আইজেনবার্গ বলেন, বোয়ি তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তদন্তকারীরা তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।

তদন্তকারীদের ধারণা, বোয়ি নিউইয়র্কের রাজধানী অঞ্চলে অবস্থিত স্টেট ক্যাপিটল ভবনটি যতটা সম্ভব ধ্বংস করে সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ২০০৪ সাল থেকে আইএসকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে।

গোপন সূত্রের তথ্য

এফবিআইয়ের এক বিশেষ এজেন্টের তৈরি ২১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বোয়ির বিরুদ্ধে সরকারি অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

আলবেনির বাসিন্দা বোয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। তিনি এক ডজনের বেশি অ্যাকাউন্ট খুলে সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করতেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।

অভিযোগপত্রে তাঁর একটি পোস্টের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রশংসা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

জুলাইয়ে এফবিআইয়ের এক গোপন তথ্যদাতা এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে বোয়ির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বোয়ি ওই ব্যক্তির কাছে বোমা তৈরিতে সহায়তা চান এবং নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটলকে তাঁর সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেন।

এক বার্তায় তিনি ভবনটি যতটা সম্ভব ধ্বংস এবং সিনেটরদের হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

পরে ওই তথ্যদাতা আরও দুজন গোপন সহযোগীর সঙ্গে বোয়ির সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের একজন বোমা তৈরির উপকরণ কেনার জন্য বোয়িকে ২০০ ডলার দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এরপর হার্ডওয়্যার প্রতিষ্ঠান হোম ডিপো থেকে এসব উপকরণ কেনেন।

অভিযোগপত্রে বোয়ির হোম ডিপোর স্বয়ংক্রিয় বিল পরিশোধের কাউন্টার ব্যবহারের ছবি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। স্টেট ক্যাপিটলের বাইরে তাঁর মোবাইল ফোনে ছবি তোলার কথাও বলা হয়েছে, যেটিকে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য হামলার আগে লক্ষ্যস্থল পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

পরে বোয়ি একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি কেনেন এবং এক গোপন সহযোগীর কাছ থেকে সেটি ব্যবহারের নির্দেশনা নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বুধবার এফবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর এফবিআইয়ের আলবেনি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বোয়ি নাকি তদন্তকারীদের বলেন, ‘বস্তুগত সহায়তার’ অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে-এ কথা তিনি আগে গুগলে খুঁজে জেনেছিলেন এবং তিনি কারাগারে যাবেন বলেও জানতেন।

এফবিআইয়ের ‘স্টিং’ অভিযান নিয়ে বিতর্ক

সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকার দীর্ঘদিন ধরে গোপন তথ্যদাতা ও ছদ্মবেশী এজেন্ট ব্যবহার করে আসছে। তবে এই কৌশল নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।

অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ‘স্টিং’ অভিযানে কখনো কখনো গোপন এজেন্টরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হামলার পরিকল্পনায় উৎসাহিত বা প্ররোচিত করে থাকেন।

২০০৯ সালের ‘নিউবার্গ ফোর’ মামলাটি এ ধরনের বিতর্কের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। ওই ঘটনায় এফবিআইয়ের এক তথ্যদাতা নিউইয়র্কের নিউবার্গে চার ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে উপাসনালয় ও সামরিক বিমান লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার কথা তোলেন।

তাঁদের রাজি করাতে ওই তথ্যদাতা ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারসহ বিভিন্ন প্রলোভন দিয়েছিলেন বলে পরে অভিযোগ ওঠে। চারজনকে ২০০৯ সালে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের বছর সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

সমালোচকেরা অবশ্য দাবি করেছিলেন, তথ্যদাতা ওই চার ব্যক্তির আর্থিক দুরবস্থার সুযোগ নিয়েছিলেন। তাঁদের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, হামলার পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চারজনের ভূমিকা সীমিত ছিল এবং কয়েকবার তাঁরা ওই তথ্যদাতাকে এড়িয়ে চলারও চেষ্টা করেছিলেন।

এক দশকের বেশি সময় পর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে চারজনকে মানবিক কারণে কারামুক্তি দেওয়া হয়। এক বিচারক তখন মন্তব্য করেন, ওই ষড়যন্ত্রে ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাই বেশি ছিল।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement