ইয়েমেনে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা, বাড়ছে হামলা

অনলাইন ডেস্ক
২১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা, বাড়ছে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের অবস্থানে ৮১টি হামলা চালানোর দাবি করেছে সরকারি বাহিনী। পাল্টা সৌদি আরবের দুটি স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুথিরা।

বৃহস্পতিবার ইয়েমেন সরকারের মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি বলেন, গত এক দিনে হুথিদের বিভিন্ন অবস্থানে চালানো ৮১টি হামলায় বেশ কয়েকজন হুথি যোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডার ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়েছে।

একই দিন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, নাজরান বিমানবন্দর ও প্রদেশটির একটি আরামকো স্থাপনায় হামলা সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।হুথিদের সমর্থনকারী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসও বৃহস্পতিবার সৌদি আরবকে সতর্ক করেছে। তাদের দাবি, হুথিরা সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়ালে রিয়াদ তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না।

জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর থেকে হুথিরা দেশটির অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলের বিভিন্ন স্থানে বারবার হামলা চালিয়েছে।

আবার জমছে যুদ্ধের মেঘ

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার, যার সদর দপ্তর এখন এডেনে, হুথিদের বিরুদ্ধে দেশটিতে অবরোধ আরোপের চেষ্টা এবং তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে।

গত এক মাসে দেশটিতে লড়াই তীব্র হয়েছে। সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা হুথিদের বিরুদ্ধে শত শত অভিযান চালিয়েছে এবং এসব অভিযানে বহু হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা প্রায় পুরো সম্মুখসীমাজুড়েই গোলাগুলি ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করেছে-এমন খবর পাওয়া যায়নি।

দুই পক্ষই সম্মুখসীমার অনেক পেছনে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এসব স্থাপনার মধ্যে বন্দর ও বিমানবন্দরও রয়েছে।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশের বড় একটি অংশ দখলে নেয়। এরপর হুথি ও সরকারের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাত শুরু হয়। সরকারকে সমর্থন দেয় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক জোট।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সরকার ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এর ফলে ইয়েমেনে বড় ধরনের লড়াই অনেকটাই থেমে যায়। তবে সাম্প্রতিক হামলা সেই বিরতি ভেঙে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ

ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘও উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, দেশটির অন্তত ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের পর্যাপ্ত খাদ্যের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নেই।

সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক উভয় পক্ষকে ইয়েমেনের মানুষের আরও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানান।

তিনি এমন সব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান, যেগুলো ইয়েমেনকে আবার সর্বাত্মক যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেনের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তি উঠে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে সেটিকে সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা