দুই বছর পর গাজা হত্যাকাণ্ডে তদন্ত ইসরায়েলের

 প্রকাশ: ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

দুই বছর পর গাজা হত্যাকাণ্ডে তদন্ত ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজায় ছয় বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব ও ১৫ জন ফিলিস্তিনি ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় দুই বছরেরও বেশি সময় পর ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে নিহতদের পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের তদন্ত অতীতে খুব কম ক্ষেত্রেই দোষীদের শাস্তির দিকে গড়িয়েছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি গাড়িতে থাকা অবস্থায় হিন্দ রাজাব নিহত হয়। ওই গাড়িতে থাকা তাঁর পরিবারের আরও ছয় সদস্যও প্রাণ হারান। হামলার পর গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে হিন্দ জরুরি সহায়তার জন্য ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। শিশুটির আতঙ্কিত কণ্ঠের রেকর্ড পরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।

হিন্দের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিল তাঁর পরিবার ও অধিকারকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, শিশুটিসহ গাড়িতে থাকা বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি।

এবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হিন্দ রাজাবের মৃত্যু এবং গাজায় ১৫ জন ফিলিস্তিনি ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হবে। দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এই ঘোষণা এসেছে।

ত্রাণকর্মীদের ঘটনাটিও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত এসব কর্মীর মৃত্যু গাজায় বেসামরিক জনগণের জন্য কাজ করা ত্রাণ সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

তবে তদন্ত শুরুর ঘোষণায় নিহতদের পরিবারগুলোর মধ্যে আশাবাদের চেয়ে সংশয়ই বেশি। তাদের বক্তব্য, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তের ক্ষেত্রে অতীতে গুরুতর অভিযোগ উঠলেও খুব কম ক্ষেত্রেই তা ফৌজদারি মামলায় রূপ নিয়েছে এবং দোষীদের শাস্তি হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, কোনো বাহিনী নিজের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা কঠিন। বিশেষ করে গাজায় দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের সময়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজন আরও বেশি।

হিন্দের পরিবারের কাছে এই তদন্তের গুরুত্ব আরও গভীর। পাঁচ বছরের শিশু হিসেবে আহত অবস্থায় গাড়ির ভেতর থেকে সাহায্য চাওয়ার পরও তাকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। তাঁর মৃত্যু তাই শুধু একটি সামরিক অভিযানের পরিসংখ্যান নয়; এটি গাজায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রশ্নও সামনে এনেছে।

নিহতদের পরিবার ও অধিকারকর্মীরা এখন দেখতে চাইছেন, তদন্তটি কতটা স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে তারা জানতে চাইছেন, তদন্তে কোনো সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সত্যিই কি অভিযোগ গঠন ও বিচার হবে।

দুই বছর পর তদন্তের ঘোষণা তাই হিন্দ রাজাবের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা তৈরি করলেও, আগের অভিজ্ঞতার কারণে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে শুধু তদন্ত ঘোষণা নয়, কার্যকর জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement