হবিগঞ্জে ৩.৩ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল ঢাকা-ত্রিপুরাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে এক মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভরদুপুরে হঠাৎ করেই কেঁপে ওঠে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বেশ কিছু এলাকা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৩। রাজধানী ঢাকা থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে এর কেন্দ্রবিন্দু হলেও আতঙ্কের এক মৃদু রেশ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, স্বল্প মাত্রার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১ মিনিট ৭ সেকেন্ডে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। তীব্র গরমের মাঝে হঠাৎ এই মৃদু কম্পনে অনেকেই সাময়িকভাবে চমকে ওঠেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পের মূল উৎপত্তিস্থল বা উপকেন্দ্র ছিল দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা হবিগঞ্জের গজনাইপুর ইউনিয়ন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধান ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে আকাশপথে এর দূরত্ব ছিল উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ১৪৬ কিলোমিটার। ভূগর্ভের স্বল্প গভীরতায় এই কম্পনটি সৃষ্টি হওয়ায় উৎপত্তিস্থলের আশেপাশের এলাকায় এটি বেশ স্পষ্টভাবেই টের পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং আবহাওয়া কেন্দ্রের সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গজনাইপুর ছাড়াও হবিগঞ্জের বানিয়াচং, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে এই কম্পনের ঢেউ পৌঁছে যায় প্রতিবেশী দেশ ভারতেও। ত্রিপুরার ধর্মনগর, ধলাই ও উনকোটি জেলা থেকেও স্থানীয় বাসিন্দারা মৃদু ঝাঁকুনি অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। দুপুরের অলস সময়ে হঠাৎ ঘরবাড়ি বা আসবাবপত্র সামান্য কেঁপে ওঠায় বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য তৈরি হলেও পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানার সই করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রিখটার স্কেলের পরিমাপ অনুযায়ী ৩.৩ মাত্রার এই কম্পনটি মূলত ‘মৃদু’ শ্রেণির আওতাভুক্ত। সাধারণত এই মাত্রার ভূমিকম্পে বড় ধরনের কোনো কাঠামোগত ক্ষতি বা ফাটল তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোথাও কোনো পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে কিনা তার খোঁজখবর রাখছে। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের এই সীমান্ত অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরেই সিসমিক জোন বা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ইন্ডিয়ান এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলে প্রায়শই ছোটখাটো ভূকম্পন হয়ে থাকে, যা বড় কোনো বিপর্যয়ের আগাম সতর্কবার্তা কিংবা ভূগর্ভস্থ শক্তি মুক্তির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হতে পারে।