ডিজিটাল ভূমি সেবায় মিলবে মুক্তি, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে সরকার: সিলেট মেলায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

 প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন   |   সিলেট

ডিজিটাল ভূমি সেবায় মিলবে মুক্তি, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে সরকার: সিলেট মেলায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

​সিলেট প্রতিনিধি : 

দেশের প্রতিটি নাগরিককে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই অ্যাপ ভিত্তিক ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে দেশের জনগণ এখন থেকে ভূমি সংক্রান্ত সব ধরনের কেলেঙ্কারি থেকে পরিত্রাণ পাবেন। আধুনিক ও সহজলভ্য এই সেবা দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। আজ মঙ্গলবার সকালে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর জমকালো উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মন্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নেন। র‍্যালিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চারপাশের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

​সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ভূমিসেবা সপ্তাহের মাধ্যমে এই অ্যাপ ভিত্তিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের খপ্পরে না পড়ে, এমনকি সরাসরি ভূমি অফিসে না গিয়েও মানুষ ঘরে বসেই ভূমি সংক্রান্ত জটিল সব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। প্রযুক্তিগত এই আধুনিকায়নের ফলে জনগণের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনই সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সেবা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ভূমি খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম চিরতরে অবসান ঘটবে।

​এ সময় সিলেটের অন্যতম আলোচিত বিষয় পাথর কোয়ারি সনাতন পদ্ধতিতে পুনরায় খুলে দেয়ার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, পাথর কোয়ারি চালু করার বিষয়ে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও জীবন-জীবিকার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। সরকার জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনস্বার্থে কোয়ারি খুলে দেওয়া হলেও সেখানে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, পরিবেশের ক্ষতি কিংবা অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকার কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না।

​জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের ভূমিসেবা মেলাটি মূলত সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল ভূমি সেবার সাথে পরিচিত ও অভ্যস্ত করানোর লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় স্থাপিত বিভিন্ন স্টল থেকে নামজারি (মিউটেশন), খতিয়ান ও পর্চা তোলা, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) অনলাইনে পরিশোধসহ সরকারের নানা ধরনের ডিজিটাল ভূমি সেবা সম্পর্কে নাগরিকদের সরাসরি তথ্য, পরামর্শ ও তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে পারেন, সেজন্য মেলা প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা নিরলস কাজ করছেন। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই মেলা প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আগামী ২১ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই মেলা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement