৫ টাকার নতুন নোটে ইতিহাসের ছোঁয়া, যুক্ত হলো ২০২৪-এর গ্রাফিতি

 প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

৫ টাকার নতুন নোটে ইতিহাসের ছোঁয়া, যুক্ত হলো ২০২৪-এর গ্রাফিতি

​প্রতিবেদক | ঢাকা

​নিত্যদিনের কেনাকাটায় পকেটে থাকা যে কাগজটি সবচেয়ে বেশি হাতবদল হয়, সেই চেনা ৫ টাকার নোটটি এবার একেবারে নতুন এক রূপ নিয়ে হাজির হচ্ছে নাগরিকদের হাতে। শুধু এক টুকরো কাগজের মুদ্রা হিসেবে নয়, বরং এতে ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য এবং সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অবিনাশী চেতনা। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের স্বাক্ষর করা ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন নকশা ও বৈশিষ্ট্যের এই ৫ টাকার কারেন্সি নোটটি আজ ১৯ মে (মঙ্গলবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে অবমুক্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মুদ্রাবাজারে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আরও জোরদার করতেই সরকারের এই নতুন উদ্যোগ।

​নতুন এই নোটটির পরতে পরতে জড়িয়ে আছে নান্দনিকতা ও গভীর তাৎপর্য। ১১৭ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬০ মিলিমিটার প্রস্থের এই নোটটির দিকে তাকালেই প্রথমে চোখে পড়বে এর হালকা গোলাপি রঙের মনকাড়া আবহ। নোটের সম্মুখভাগের বাঁ-পাশে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তারা মসজিদের ছবি। ঠিক মাঝখানের ব্যাকগ্রাউন্ডে স্থান পেয়েছে জলজ প্রকৃতির নান্দনিক প্রতীক— পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলা। তবে এই নোটের সবচেয়ে বড় চমক ও ঐতিহাসিক সংযোজনটি রয়েছে এর পেছনভাগে। সেখানে স্থান পেয়েছে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি। তরুণ প্রজন্মের দেয়ালে আঁকা সেই দ্রোহ ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি এবার কোটি মানুষের পকেটে পকেটে ঘুরবে, যা দেশের মুদ্রার ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

​নকল নোটের ভিড়ে আসল মুদ্রা চিনে নেওয়ার জন্য এই নোটে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক ও বিশ্বমানের সব নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য। নোটটি আলোর বিপরীতে ধরলে এর ভেতরে থাকা ২ মিলিমিটার চওড়া বিশেষ নিরাপত্তা সুতাটি উভয় পাশ থেকেই স্পষ্ট দেখা যাবে। এছাড়া নোটে জলছাপ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশের অহংকার ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’-এর মুখাবয়ব। তার ঠিক নিচেই জ্বলজ্বল করবে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ ‘৫’ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সরকারি মনোগ্রাম। সাধারণ চোখে ধরা না পড়লেও নোটের সম্মুখভাগের নিচের দিকে গ্রিউইশ প্যাটার্নের ওপর মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে আনুভূমিকভাবে অতি ক্ষুদ্রাক্ষরে অসংখ্যবার ‘BANGLADESH’ শব্দটি মুদ্রিত রয়েছে, যা কেবল আতশিকাচের নিচেই ধরা পড়বে।

​নতুন এই নোট বাজারে আসায় সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা কৌতুহল তৈরি হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বাজারে বর্তমানে প্রচলিত থাকা সব পুরোনো ৫ টাকার কাগজের নোট এবং ধাতব মুদ্রা (কয়েন) আগের মতোই সমান্তরালভাবে সচল ও বিনিময়যোগ্য থাকবে। নতুন নোটটি মূলত বাজারে প্রচলিত মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং জরাজীর্ণ নোট প্রতিস্থাপনের অংশ হিসেবেই ছাড়া হয়েছে। আজ সকাল থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা অফিসের কাউন্টার থেকে এই নতুন নোট সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ শুরু হয়েছে।

​এদিকে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি দেশের মুদ্রা সংগ্রাহকদের (নুমিসম্যাটিস্ট) মাঝেও এই নতুন নোট নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গ্রাফিতির সংযোজন এই নোটের ঐতিহাসিক মূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সংগ্রাহকদের এই বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণ নোটের পাশাপাশি বিশেষ ‘নমুনা’ বা স্পেসিমেন (Specimen) নোটও মুদ্রণ করেছে। তবে মনে রাখতে হবে, এই স্পেসিমেন নোটগুলো বাজারে কোনো কেনাকাটা বা বিনিময়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। মুদ্রা সংগ্রাহকরা মিরপুরে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম’ থেকে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করে এই বিশেষ স্মারকটি নিজেদের সংগ্রহশালার জন্য সংগ্রহ করতে পারবেন। আজ সকাল থেকেই মিউজিয়ামের কাউন্টারে সংগ্রাহকদের ভিড় জমতে দেখা গেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement