উন্মোচিত হলো নতুন দিগন্ত: বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম প্রশাসক হিসেবে যোগ দিলেন এম আর ইসলাম স্বাধীন

 প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

উন্মোচিত হলো নতুন দিগন্ত: বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম প্রশাসক হিসেবে যোগ দিলেন এম আর ইসলাম স্বাধীন

প্রতিনিধি, বগুড়া

​উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর বগুড়া অবশেষে পেল সিটি করপোরেশনের মর্যাদা। আর এই নতুন সিটি করপোরেশনের প্রথম পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও সমাজসেবক এম আর ইসলাম স্বাধীন। এর মধ্য দিয়ে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের পথে এক ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হলো এবং নতুন এই সিটি করপোরেশনটির দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়াল।

​এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের স্বাক্ষর করা এক সরকারি গেজেটে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার পরপরই পুরো বগুড়া জুড়ে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। এরপর গত সোমবার (১৮ মে) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) থেকে প্রথম প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামের স্বাক্ষর করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ২৫ক-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বগুড়া শহরের মালতীনগর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এম আর ইসলাম স্বাধীনকে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো।

​প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালেই আর কোনো কালক্ষেপণ না করে নতুন কর্মস্থলে হাজির হন নবনিযুক্ত প্রশাসক। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত পত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদের কার্যভার গ্রহণ করেন। তার এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বগুড়াকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

​স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এম আর ইসলাম স্বাধীন বগুড়ার একজন পরিচিত মুখ এবং তার এই নিয়োগকে শহরের নাগরিক সমাজ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। নতুন প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর তিনি উপস্থিত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দায়িত্ব নিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বগুড়াকে একটি বাসযোগ্য ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। তবে নতুন একটি সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরুর ক্ষেত্রে প্রথম দিকে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। বিশেষ করে সীমানা নির্ধারণ, নতুন জনবল কাঠামো তৈরি, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ তার সামনে অপেক্ষা করছে।

​বগুড়াবাসী দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন। শিল্প ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এই জনপদকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এখন প্রথম পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সেই দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হলো। সচেতন মহল মনে করছেন, নতুন প্রশাসকের হাত ধরে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে বগুড়া খুব দ্রুতই একটি আদর্শ মহানগরীতে পরিণত হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement