‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে: শামা ওবায়েদ

 প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে: শামা ওবায়েদ

​প্রতিনিধি, ঢাকা।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ও গভীর হচ্ছে।

​স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ওয়াশিংটনে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’ আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারক, কূটনৈতিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল দিকগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

​দীর্ঘ এক রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও টানাপোড়েনের পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। তিনি জোরালোভাবে ব্যক্ত করেন যে, দেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা এবং জনগণের কল্যাণ সাধনই এই সরকারের প্রধান এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

​বৈঠকে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমাত্রিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ কেবল ভূ-রাজনৈতিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিক থেকেও একটি অন্যতম প্রধান অংশীদার। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং প্রযুক্তিগত বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আগের চেয়ে অনেক গতিশীল হয়েছে। মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার এবং নতুন নতুন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বর্তমান সরকার নানামুখী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন।

​আটলান্টিক কাউন্সিলের এই গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে মার্কিন বিশ্লেষকরা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন। দীর্ঘায়িত এই আলোচনায় শামা ওবায়েদ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট জোট বা শক্তির দিকে ঝুঁকে না পড়ে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখবে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নয়ন অংশীদারদের সাথে অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত রূপ নেবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement