ক্রীড়াঙ্গনে তারেক রহমানের ‘মাস্টারপ্ল্যান’: নতুন কুঁড়িতে আগামীর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ০২ মে, ২০২৬
সিলেটের আকাশ-বাতাস আজ তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মুখরিত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিলেটে যাত্রা শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর। শনিবার বিকেল পৌনে চারটায় জেলা স্টেডিয়ামে কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো ক্রীড়াপ্রেমীর অভিবাদনের মধ্য দিয়ে এই মেগা ইভেন্টের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান।
সাংস্কৃতিক গণ্ডি পেরিয়ে এবার খেলার মাঠে ‘নতুন কুঁড়ি’
বিগত কয়েক দশক ধরে ‘নতুন কুঁড়ি’ ছিল কেবল নাচ, গান, আবৃত্তি আর চিত্রাঙ্কনের মতো সৃজনশীল প্রতিভার সূতিকাগার। তবে সময়ের প্রয়োজনে এবং দেশের ক্রীড়া মানচিত্রকে বদলে দিতে প্রধানমন্ত্রী এই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মকে এবার খেলার মাঠে নিয়ে এসেছেন। ফুটবল, ক্রিকেটসহ মোট ৮টি ভিন্ন ইভেন্টে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে দেশের আনাচে-কানাচে থেকে উঠে আসা প্রায় দুই লাখ খুদে ও তরুণ অ্যাথলেট।
‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’—বাস্তবায়নের পথে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন নির্বাচনী প্রচারণা এবং দেশে ফেরার পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার বলেছিলেন, “I have a plan”। আজকের এই আয়োজনকে সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই একটি সফল বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই শিশুরা কেবল খেলোয়াড় নয়, তারা একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। এই মাঠ থেকেই তৈরি হবে আন্তর্জাতিক মানের সেই সব ক্রীড়াবিদ, যারা বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলার গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী তাঁর লিখিত বক্তব্যের বাইরে গ্যালারিতে বসা তরুণদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ খোলামেলা কথা বলেন। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তিনি তরুণদের উৎসাহিত করে বলেন:
“সবাইকে পড়াশোনা করতেই হবে, এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। কিন্তু কেবল বইয়ের পাতায় বন্দি থাকলে চলবে না। পড়াশোনার পাশাপাশি তোমাদের মাঠে নামতে হবে, খেলতে হবে। শরীর ও মনকে সুস্থ রেখে নিজেদের আগামীর নেতৃত্বের জন্য তৈরি করতে হবে।”
বিশ্বমানের খেলোয়াড় গড়ার কারিগর
আয়োজক কমিটির মতে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কেবল একটি সাধারণ টুর্নামেন্ট নয়; এটি মূলত একটি টেলেন্ট হান্ট একাডেমি হিসেবে কাজ করবে। এখান থেকে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ফুটবল ও ক্রিকেটের বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বর্তমান সরকার।
সিলেটের এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। দেশের মানুষের প্রত্যাশা, নতুন কুঁড়ির এই স্পোর্টস চারাগুলো একদিন মহীরুহ হয়ে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের জয়গান গাইবে।