মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না সরকার: জামায়াত আমির
প্রতিনিধি সিলেট:
সিলেটে নির্যাতনে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিধ্বনি ঘটেছে তার বক্তব্যে। বিএনপি সরকারের তিন মাসের কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এই মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করা সমীচীন না হলেও এটুকু নির্দ্বিধায় বলা যায় যে মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ মোটেও ভালো নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতি জনগণের চাওয়া-পাওয়ার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের সোনাতলা এলাকায় নিহত শিশু ফাহিমার বাড়িতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ডা. শফিকুর রহমান শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া যদি কোনো কারণে দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়ে, তবে দেশের মানুষ ধরে নেবে যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের আর কোনো সুষ্ঠু বিচার হবে না। অতীতে রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের উদাহরণ টেনে তিনি জোর দাবি জানান যে, ফাহিমা হত্যার বিচারও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং সরকারকে এই বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক বা যৌক্তিক ভিত্তি থাকে না।
একই সাথে দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে তেলের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। এক মাসের ব্যবধানে পুনঃপুনঃ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোকে জনগণের ওপর এক ধরনের 'জুলুম' হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, যেকোনো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় মূল্যবৃদ্ধির মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তা জাতীয় সংসদে বিশদ আলোচনার মাধ্যমে পাস করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে গভীর রাতে, যখন সাধারণ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন গোপনে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকারের এমন গোপনীয়তা ও আকস্মিক সিদ্ধান্তকে তিনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করতে পারে, যা কারোর জন্যই কল্যাণকর হবে না।