তেরখাদার চিত্রা নদীর ওপরে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজ ; প্রাণহানির শঙ্কা
মাসুদ আল হাসান, খুলনা ব্যুরো :
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় চিত্রা নদীর ওপর নির্মিত একটি কাঠের সেতু যা এলাকাবাসীর কাছে এখন মরণ ফাঁদ। বছরের পর বছর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের অভাবে সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পারাপার করছেন।
তেরখাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরফদার মিরাজ হেসেন বলেন, আমাদের বিদ্যালয় একটি পুরনো ও আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটা একটি ভোটকেন্দ্রও। ব্রিজের ভগ্ণদশার কারণে বিদ্যালয়ে আসা দুষ্কর হয়ে গেছে।
নড়বড়ে কাঠ, মরিচা ধরা নাট-বল্টু সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির অধিকাংশ কাঠ পঁচে গেছে। অনেক জায়গায় ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে, হাতল ভেঙে পড়েছে, নিচে নদীর স্রোত স্পষ্ট দেখা যায়। সামান্য ভারী যান চলাচল করলেই পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন আর সেতু নয়—একটি ‘মৃত্যুফাঁদ’।
শিক্ষার্থী ও রোগীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে,এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক ও রোগীরা চলাচল করেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাঠ ভিজে আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এর আগে একাধিকবার মানুষ পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও সেগুলো নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বারবার জানানো হলেও নেই উদ্যোগ,স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুবার ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ তো দূরের কথা, অস্থায়ী সংস্কারও করা হয়নি।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এই সেতুর দায়িত্ব কার? জনপ্রতিনিধিরা কি কেবল নির্বাচনের সময়ই মানুষের কথা শোনেন? প্রতিদিন যদি দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নীরবতা কি দায়িত্বহীনতার প্রমাণ নয়?
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন,“এই সেতু দিয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়। যে কোনো দিন বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। তখন দায় নেবে কে?”
শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল অবিলম্বে কাঠের এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু অপসারণ করে চিত্রা নদীর ওপর একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।