ধানমন্ডি ৩২-এ বড় ধরনের মিছিলের ছক বানচাল: উপজেলা যুবলীগ সভাপতিসহ আটক ২৩

 প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন   |   ঢাকা

ধানমন্ডি ৩২-এ বড় ধরনের মিছিলের ছক বানচাল: উপজেলা যুবলীগ সভাপতিসহ আটক ২৩

মহানগর ডেস্ক:

​রাজধানীর বুকে হঠাৎ বড় ধরনের শো-ডাউনের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী ও সুপরিকল্পিত ছক আপাতত ভেস্তে গেছে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এবং এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ২৩ জন নেতাকর্মীকে যৌথ অভিযানে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা এসব নেতাকর্মী অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ধানমন্ডিতে জড়ো হচ্ছিলেন এবং একযোগে একটি বিশাল ‘ঝটিকা মিছিল’ বের করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

​আজ শুক্রবার দুপুরে এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক। তিনি জানান, ধানমন্ডি ও এর সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের অপচেষ্টা রুখতে আগে থেকেই পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায়, দুপুরের দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের আশপাশে কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির আনাগোনা ও জটলা লক্ষ্য করে পুলিশ। তাদের গতিবিধি ট্র্যাক করে চালানো সাঁড়াশি অভিযানে শেষ পর্যন্ত ২৩ জনকে আটক করা সম্ভব হয়। আটককৃতদের প্রাথমিক পরিচয় বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, তাদের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা রয়েছেন, যার মধ্যে একটি উপজেলা যুবলীগের সভাপতিও অন্তর্ভুক্ত। তারা মূলত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সংগঠিত করে একটি আকস্মিক ও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসেছিলেন।

​এই ঝটিকা মিছিলের পেছনের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আজ একটি ভিন্নধর্মী ও সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করেছিল। তাদের মূল পরিকল্পনা ছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক আবহে দাঁড়িয়ে দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সমবেতভাবে একটি বিশেষ ‘শপথ’ গ্রহণ করা। এই প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে তারা দলের নেতাকর্মীদের নতুন করে চাঙ্গা করার স্বপ্ন দেখছিলেন। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় সেই পরিকল্পনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে আটককৃতদের নাম, পরিচয় এবং পূর্বের কোনো নাশকতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে কিনা, তা কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ধানমন্ডি ও তার আশপাশের সব গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে দলটির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গোপন অ্যাপস ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় কর্মী জড়ো করার চেষ্টা করছিল। শুক্রবার ছুটির দিনে সাধারণ মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তারা এই শো-ডাউনটি করতে চেয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক ও কঠোর অবস্থানের কারণে ধানমন্ডির পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং শান্ত রয়েছে। এ ধরনের যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement