পারিবারিক কলহের জেরে প্রাণ গেল নবাবপুরের ব্যবসায়ীর, রেখে গেলেন দুই সন্তান

 প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন   |   ঢাকা

পারিবারিক কলহের জেরে প্রাণ গেল নবাবপুরের ব্যবসায়ীর, রেখে গেলেন দুই সন্তান

মহানগর ডেস্ক:

​রাজধানীর ব্যস্ততম ব্যবসায়িক এলাকা বংশালের নবাবপুর রোডে এক পারিবারিক কলহের জেরে এক যুবকের করুণ আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৭ মে) বিকেলে রথখোলা মোড় সংলগ্ন একটি বহুতল ভবনের নিজস্ব কক্ষ থেকে কৌশিক আহমেদ নামের ২৮ বছর বয়সী এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পেশায় মেশিনারি ব্যবসায়ী এই যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার এবং দুটি অবুঝ সন্তানকে রেখে কৌশিকের এই চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নবাবপুর রোডের ২৫৫/৩ নম্বর বাড়িতে পরিবারের সাথে বসবাস করতেন কৌশিক। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক জীবন চললেও ঘটনার দিন অর্থাৎ রোববার বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যদের সাথে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা ও কলহ হয়। একপর্যায়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে কৌশিক নিজের শোবার ঘরে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তারা দীর্ঘক্ষণ দরজা ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।

​উপায়ান্তর না দেখে কৌশিকের ভাই রিফাতসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে ঘরের কাঠের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তারা এক মর্মান্তিক দৃশ্যের মুখোমুখি হন। সিলিংয়ের সাথে কৌশিককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে স্বজনদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের করিডোরে তখন স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

​ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যুবকের মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুরো ঘটনাটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বংশাল থানাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং পারিবারিক কলহের উৎস খতিয়ে দেখে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement