রাজকীয় চমকের পর এবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার: মুগ্ধ নবদম্পতি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল আর ব্যস্ততার বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের আনন্দ-উৎসবে শামিল হওয়া এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আকস্মিক উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেই নবদম্পতির জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন সরকার প্রধান।
রোববার (১০ মে) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি সুসজ্জিত উপহার সামগ্রী নিয়ে গুলশানে নবদম্পতির বাসভবনে হাজির হন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা ও দোয়া দম্পতির কাছে পৌঁছে দেন। কেবল উপহার নয়, সরকার প্রধানের পক্ষ থেকে পাঠানো এই ভালোবাসার বার্তাটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার (৯ মে)। সেদিন রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সভা শেষে ফিরছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ঠিক সেই সময় একই ভবনের অন্য একটি মিলনায়তনে চলছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। গাড়িবহর নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে হুট করেই প্রটোকল ভেঙে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়েন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে দেখে মুহূর্তেই আনন্দ আর বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েন কনেসহ উপস্থিত অতিথিরা।
সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল, প্রধানমন্ত্রী যখন অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান, বর তখনও অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছাননি। কনের পাশে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাস্যোজ্জ্বল কথোপকথন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় পুরো আয়োজনে এক অন্যরকম প্রাণের সঞ্চার করে। আভিজাত্য আর ক্ষমতার দূরত্ব ঘুচিয়ে তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন সেই পরিবারেরই একজন পরমাত্মীয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতার বিষয়ে নবদম্পতির পরিবারের এক সদস্য জানান, তাঁরা কল্পনাও করেননি দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে এভাবে উপস্থিত হবেন। আজ উপহার পাওয়ার পর তাঁদের সেই মুগ্ধতা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের প্রতি তাঁর এই যে টান, তা সত্যিই বিরল।
রাষ্ট্রীয় গুরুভার কাঁধে নিয়েও একজন সাধারণ নাগরিকের জীবনের বিশেষ মুহূর্তকে এভাবে সম্মান জানানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ জনমনে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই একে দেখছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নিবিড় সম্পৃক্ততার এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে। একটি সাধারণ বিয়ের উৎসব এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর স্পর্শে পরিণত হয়েছে এক স্মরণীয় জাতীয় গল্পে।