পদ্মা সেতুতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিটিই কি খুনি ফোরকান? ​কাপাসিয়ায় ৫ খুন: মোবাইল উদ্ধার হলেও মরদেহের অপেক্ষায় পুলিশ

 প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন   |   ঢাকা

পদ্মা সেতুতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিটিই কি খুনি ফোরকান?  ​কাপাসিয়ায় ৫ খুন: মোবাইল উদ্ধার হলেও মরদেহের অপেক্ষায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক রোমহর্ষক মোড় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন বলে জোরালো সন্দেহ করছে পুলিশ। ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মেহেরপুর থেকে উদ্ধার করা হলেও তার মরদেহের কোনো হদিস মেলেনি। ফলে এই খুনি বেঁচে আছেন নাকি সলিল সমাধি হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

​গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) শরিফ উদ্দীন। তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশের তিনটি টিম অভিযানে নামে। একপর্যায়ে মেহেরপুরে এক বাস হেলপারের কাছ থেকে ফোরকানের মোবাইল উদ্ধার করা হয়। ওই হেলপার পুলিশকে জানায়, পদ্মা সেতুর ওপর মোবাইলটি পড়ে থাকতে দেখে সে কুড়িয়ে নিয়েছিল।

​সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে

পুলিশ সুপার জানান, মোবাইল উদ্ধারের সূত্র ধরে পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তকারী দল। ফুটেজে দেখা যায়, গত শনিবার (৯ মে) সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে একটি প্রাইভেটকার থেকে এক ব্যক্তি সেতুর ওপর নামেন। সেখানে তার ব্যাগ ও মোবাইল ফোনটি রেখে প্রায় দেড় থেকে দুই মিনিট পায়চারি করেন তিনি। এরপর হঠাৎ রেলিং টপকে নিচের প্রমত্তা পদ্মায় ঝাঁপ দেন ওই ব্যক্তি। পুলিশ ওই প্রাইভেটকার চালককে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

​পরিবারের সংশয়

ভিডিও ফুটেজে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিটিই ফোরকান কি না, তা নিশ্চিত হতে নিহতের স্বজনদের সহায়তা নিয়েছে পুলিশ। মামলার বাদী শাহাদাৎ মোল্লা, নিহতের দুই ছেলে এবং ফোরকানের ভাই জব্বারসহ আত্মীয়দের ওই ফুটেজ দেখানো হয়েছে। এসপি শরিফ উদ্দীন বলেন, “ভিডিও দেখে তারা বলছেন—লোকটি ফোরকান হতে পারে, কিন্তু পোশাক বা চেহারা দেখে তারা শতভাগ নিশ্চিত হতে পারছেন না। ফলে যতক্ষণ পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষা না করা যাচ্ছে, ততক্ষণ আইনগতভাবে তাকে মৃত ঘোষণা করার সুযোগ নেই।”

​তদন্তে কেবল ফোরকানই অভিযুক্ত

পুলিশের তদন্তে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফোরকান মোল্লা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। খুনের পর ফোরকান নিজেই তার ভাইকে ফোন করে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। তবে তিনি কেন বা কী কারণে এমন নৃশংসতা ঘটিয়েছেন, তা জানতে তাকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা জরুরি বলে মনে করছে পুলিশ।

​উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), শ্যালক রসুল (২২), মেয়ে মিম (১৪), উম্মে হাবিবা (৮) ও দেড় বছরের শিশু ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবার বাড়ি গোপালগঞ্জের সদর উপজেলায়। অভিযুক্ত ফোরকানকে আইনের আওতায় আনতে এবং মরদেহের সন্ধানে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement