​নারায়ণগঞ্জে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’র পর এবার রণমূর্তিতে ‘নেতানিয়াহু’: এক এলভিনো মহিষের গল্প

 প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন   |   ঢাকা

​নারায়ণগঞ্জে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’র পর এবার রণমূর্তিতে ‘নেতানিয়াহু’: এক এলভিনো মহিষের গল্প

​নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ 

​নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শান্ত গ্রাম দাসেরগাঁও। ভোরের আলো ফুটতেই এখানকার ‘এসএস ক্যাটেল ফার্মে’র চারপাশ লোকে লোকারণ্য। তবে এবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু কোনো সাধারণ গবাদিপশু নয়, বরং ৭৬০ কেজি ওজনের এক দানবীয় আকৃতির গোলাপি মহিষ। যার নাম রাখা হয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নামানুসারে— ‘নেতানিয়াহু’।

​কিছুদিন আগেই এই জেলাতে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের একটি গরু নিয়ে শোরগোল পড়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলোচনায় এল এই যুদ্ধবাজ স্বভাবের মহিষটি।

​রাজকীয় অবয়ব, উগ্র মেজাজ

​বিরল এলভিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের রং সচরাচর দেখা যায় না— কিছুটা কালচে-গোলাপি আভার মিশ্রণ। তবে এর নামের পেছনে গায়ের রং নয়, বরং কাজ করেছে এর অদ্ভুত শারীরিক গঠন ও আচরণ। খামারের কর্মচারীরা জানান:

​সিঁথিকাটা চুল: মহিষটির মাথার চুলগুলো এমনভাবে দুই ভাগে বিভক্ত, যা দেখতে অনেকটা মানুষের সিঁথির মতো।

​তীক্ষ্ণ দৃষ্টি: এর চোখের চাহনি এবং আকার নাকি হুবহু মিলে যায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অবয়বের সঙ্গে।​যুদ্ধবাজ স্বভাব: নামের স্বার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায় এর মেজাজে। শান্ত থাকা এর স্বভাববিরুদ্ধ। এমনকি যে রাখালরা একে ছোট থেকে খাইয়ে-দাইয়ে বড় করেছেন, সুযোগ পেলেই তাদের দিকে তেড়ে আসে সে। এই উগ্র মেজাজের কারণেই খামারিরা ভালোবেসে (কিংবা ভয়ে!) নাম দিয়েছেন ‘নেতানিয়াহু’।

​ডায়েট চার্টে আভিজাত্য

​স্বভাবে উগ্র হলেও আপ্যায়নে কোনো কমতি নেই এই ‘নেতানিয়াহু’র। প্রতিদিন তার খাদ্যতালিকায় থাকে প্র প্রিমিয়াম মানের ঘাস, ভুট্টা এবং ভুসির মিশ্রণ। তবে এখানেই শেষ নয়, শরীর ঠান্ডা রাখতে তাকে দিনে দুই বেলা নিয়ম করে গোসল করানো হয় এবং মাঝেমধ্যে পরিবেশন করা হয় কিছু বিশেষ ‘রাজকীয়’ খাবার। বিশাল বপুর এই মহিষটির বর্তমান ওজন ৭৬০ কেজির বেশি, যা কোরবানির হাটে বড় ধরনের চমক হতে যাচ্ছে।

​দর্শকদের ভিড় ও আকাশচুম্বী চাহিদা

​ফার্মের ম্যানেজার মেহেদী হাসান জানান, “এলভিনো জাতের এই মহিষটি আমাদের খামারের গর্ব। শুধু নাম আর মেজাজের কারণেই নয়, এর গঠনশৈলীও অনন্য। অনেক ক্রেতাই ইতোমধ্যে এর দাম হাঁকছেন। তবে এটি এখন বিক্রির একদম শেষ পর্যায়ে (সোল্ড আউট হওয়ার পথে)।”

​দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন খামার কর্তৃপক্ষ। কেউ আসছেন সপরিবারে, কেউবা বন্ধুদের নিয়ে কেবল একনজর এই ‘যুদ্ধবাজ’ মহিষটিকে দেখতে। এক দর্শনার্থী হাসিমুখে বলছিলেন, “শুনেছিলাম এর মেজাজ খুব কড়া, সামনাসামনি এসে দেখলাম চোখের চাউনি সত্যিই ভয়ংকর!”

Advertisement
Advertisement
Advertisement