টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত: উন্নয়নের শীর্ষে নেওয়ার অঙ্গীকার প্রতিমন্ত্রী টুকুর
নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল | ১২ মে, ২০২৬
টাঙ্গাইলের পশ্চিমাঞ্চলে যমুনার ঢেউয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করা চরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হতে চলেছে। নদীবেষ্টিত এই জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলাকে দেশের উন্নয়নের রোল মডেল বা ‘এক নম্বর’ তালিকায় উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব আশার কথা শোনান।
উন্নয়নের রোডম্যাপ: গল্প যখন রূপান্তরের
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর বক্তব্যে উঠে এসেছে চরাঞ্চলবাসীর জীবনমান উন্নয়নের এক মহাপরিকল্পনা। ভাষণে তিনি যে বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন:
চরাঞ্চলে স্বপ্নের হাসপাতাল: পশ্চিম টাঙ্গাইলের যমুনা তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর মানুষ যুগ যুগ ধরে উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। প্রতিমন্ত্রী জানান, তাদের এই কষ্ট লাঘবে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। চরাঞ্চলেই নির্মিত হবে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল, যা হবে ওই অঞ্চলের হাজারো মানুষের আস্থার প্রতীক।
উন্নয়নের শীর্ষে টাঙ্গাইল সদর: প্রতিমন্ত্রী কেবল আশ্বাসের বুলি নয়, বরং কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে চান। তিনি ঘোষণা করেন, "আগামী পাঁচ বছর পর যখন দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলাগুলোর তালিকা হবে, তখন টাঙ্গাইল সদর এক নম্বরে থাকবে।" শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার ডাক: উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে ‘মাদকের ভয়াবহতা’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদক কেবল একটি জীবন নয়, একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। এই সামাজিক ব্যাধি রুখতে মসজিদ, মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের এবং যুবসমাজকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের নেপথ্যে
এদিন জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ৩১টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুল হক নাসিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চরাঞ্চলের উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একাত্মতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বপ্না, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক শানু এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিশেষ মন্তব্য: প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণা চরাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের 'স্বাস্থ্য-হাহাকার' মেটানোর পাশাপাশি টাঙ্গাইলের সামগ্রিক অবকাঠামো পরিবর্তনে এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চরের বালি ছাপিয়ে এখন সেখানে আধুনিক নগরায়ণ আর সুস্বাস্থ্যের স্বপ্ন বুনছেন সাধারণ মানুষ।