শিশু-কিশোরদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে কাজ করবে —তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীসরকার
ঢাকা, ২৫ শ্রাবণ (৯ আগস্ট):
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের অবদান ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের কাছে দেশের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনের পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে লেখক ও সাংবাদিক সাবরিনা শুভ্রার রচিত ‘শহীদ জিয়ার গল্প শোনো’ ও ‘ছোটদের প্রিয় খালেদা জিয়া’ বই দুটির মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের উপযোগী করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং দেশের জন্য বিভিন্ন সময়ে অবদান রাখা ব্যক্তিদের ভূমিকা তুলে ধরার মতো বই, চলচ্চিত্র ও অন্যান্য সৃজনশীল কাজ আরও বেশি প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, দেশের বাইরে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদেরও বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য শিশু-কিশোরদের উপযোগী ঐতিহাসিক বইগুলোর ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একইভাবে গণতন্ত্র রক্ষা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা ও ত্যাগও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করা না হলে সময়ের সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। দেশে যাতে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’-এর স্বত্বাধিকারী দীপান্ত রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, সংসদ সদস্য কে এম বাবর এবং সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার টপি এবং সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ।