পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ মানেই দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বিনিয়োগ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

 প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ মানেই দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বিনিয়োগ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

পাবনা প্রতিনিধি:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নয়, বরং তা জাতীয় উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি সফল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য।

শুক্রবার পাবনার ঈশ্বরদীর স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ‘High-Level Strategic Roundtable Discussion: Nuclear Energy—Strategy, Realities and Bangladesh's Path Forward’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র-এ পারমাণবিক জ্বালানি লোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত, যা বাংলাদেশকে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাতারে স্থান করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক শক্তি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয় এবং দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে, শিল্পায়নের গতি বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রূপপুর প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরে পারমাণবিক প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ক্যান্সার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা, উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে এ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

দেশে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

International Atomic Energy Agency-এর সহযোগিতায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন

অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ কবির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উপস্থাপনা করেন ড. এম মঈনুল ইসলাম এবং জাতীয় সমন্বয়ক (এনএসপিসি) ব্রিগেডিয়ার রোবায়েত। তাদের উপস্থাপনায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে পারমাণবিক শক্তির কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement