চলতি মাসের শেষ দিকে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

চলতি মাসের শেষ দিকে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


চলতি জুনের শেষ সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটি হবে তাঁর দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং কৌশলগত সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

বৃহস্পতিবার চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত সপ্তম চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামে অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে তাঁর চীন সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০২ সালের সফরও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে কায়সার কামাল বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণসংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় সংলাপকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে চীন এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য করিডোর সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বিনিময়, পর্যটন উন্নয়ন এবং তরুণদের মধ্যে অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের মাধ্যমে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। এর ফলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি যেমন বাড়বে, তেমনি বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

ফোরামের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে মতবিনিময় করে। সেখানে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন, চামড়া শিল্পের আধুনিকায়ন এবং তিস্তা ব্যারেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

চীনা নেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তারা।

এর আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। কুনমিংয়ে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছে। এবারের আসরে ‘থিম কান্ট্রি’ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ এবং দেশের বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিত্বকারী ৮৪টি প্যাভিলিয়ন মেলায় স্থান পেয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement