ছুটি শেষের আবহেও চেনা টান: ঈদের তৃতীয় দিনেও ঘরমুখো মানুষের স্রোত
অনলাইন ডেস্ক:
ঈদের আনুষ্ঠানিক আনন্দ-উৎসবের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাটেনি শেকড়ের টান। উৎসবের চিরচেনা কোলাহল যখন কিছুটা থিতিয়ে আসছে, ঠিক তখনই এক ভিন্ন স্রোতের দেখা মিলল রাজধানীর প্রবেশ ও বাহির পথগুলোতে। ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ, যাদের চোখে-মুখে প্রিয়জনের কাছে ফেরার ব্যাকুলতা। শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া না হলেও, বেশ ভালো রকমের ভিড় লক্ষ করা গেছে। তবে এবারের দৃশ্যপট ঈদের আগের চিরচেনা ভোগান্তির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। নেই কোনো হুড়োহুড়ি, নেই টিকিট না পাওয়ার তীব্র হাহাকার; বরং এক ধরনের স্বস্তি আর শান্ত মেজাজেই ঢাকা ছাড়ছেন এই বিলম্বে বের হওয়া যাত্রীরা।
সাধারণত ঈদের আগে ঢাকা ছাড়ার যে মহাসংগ্রাম দেখতে আমরা অভ্যস্ত, এবার অনেকেই সচেতনভাবে সেই পথ মাড়াননি। ঈদের আগে টিকিটের তীব্র সংকট, কাউন্টারগুলোর দীর্ঘ লাইন এবং সড়কপথের ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে থাকা যানজটের ভোগান্তি এড়াতেই এই বিকল্প পরিকল্পনা। অনেকেই ঢাকার যান্ত্রিক জীবনে ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনটি পরিবারের সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে কাটিয়েছেন। এরপর ছুটির বাকি দিনগুলো গ্রামের বাড়ির শান্ত স্নিগ্ধতায় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কাটাতে এবং শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত আঙিনায় সময় উপভোগ করতে রওনা হয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দেখা গেছে, যাত্রীরা এসে অনায়াসেই টিকিট সংগ্রহ করছেন এবং নির্ধারিত বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। মহাসড়কগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা থাকায় এবং যানজটের ধকল না থাকায় অত্যন্ত দ্রুত ও নির্বিঘ্নে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন, যা ঈদের আগে কল্পনাই করা যেত না।
তবে এই যাত্রার সমান্তরালে রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলোতে দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র। যে কমলাপুর স্টেশনে মানুষ ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন, ঠিক তার পাশের প্ল্যাটফর্মেই ঢাকামুখী ট্রেনের যাত্রীরা এসে নামছেন। জীবিকার তাগিদে বা জরুরি প্রয়োজনে যাদের ঈদের পরদিনই ঢাকায় ফিরতে হয়েছে, তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে টার্মিনালগুলো। একদিকে ঢাকা ছাড়ার আনন্দ, অন্যদিকে কর্মস্থলে ফেরার ব্যস্ততা—দুইয়ে মিলে এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীর পরিবহন খাতগুলোতে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে যে উপচে পড়া চাপ থাকে, তা সামলানো কঠিন হলেও এখনকার পরিস্থিতি বেশ গোছানো। যাত্রী সাধারণও কোনো রকম বাড়তি ভাড়া বা হয়রানি ছাড়াই যাতায়াত করতে পারছেন। সব মিলিয়ে, ঈদের এই বিলম্বিত যাত্রা যেন যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা আর নাড়ির টানের মাঝে এক চমৎকার ভারসাম্য তৈরি করেছে।