শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী: শেরেবাংলা নগরে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা ও স্মৃতির মিনার

 প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী: শেরেবাংলা নগরে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা ও স্মৃতির মিনার

অনলাইন ডেস্ক:

ঐতিহাসিক মে মাসের শেষ প্রহরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আকাশ জুড়ে ছিল এক শান্ত ও গাম্ভীর্যপূর্ণ আবহ। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম মোড় পরিবর্তনকারী ব্যক্তিত্ব, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের স্মৃতি এখনো দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে কতটা প্রগাঢ়, তারই এক অনন্য চিত্র ফুটে উঠল শনিবার সকালে। তার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে নেওয়া নানামুখী কর্মসূচির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল জিয়ার মাজার প্রাঙ্গণ।

শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে কড়া প্রটোকল আর হাজারো নেতাকর্মীর আবেগঘন উপস্থিতির মধ্য দিয়ে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের নেপথ্যের নায়কের সমাধিতে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, যা সমবেত জনতাকে এক আবেগঘন মুহূর্তে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মরহুম নেতার রুহের মাগফিরাত এবং দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জিয়ারত পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাজার প্রাঙ্গণেই এক বিশাল দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ দোয়ায় দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে তৃণমূলের হাজারো কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে এক ধরনের আবেগঘন সংহতি লক্ষ্য করা যায়, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটির অভ্যন্তরীণ শক্তি ও ঐক্যের এক নীরব বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, শহীদ জিয়ার এই ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীকে ঘিরে দলটির পক্ষ থেকে কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশব্যাপী বিস্তৃত এক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। গত ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি আগামী ১ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ মোট আট দিনব্যাপী পালিত হচ্ছে। আধুনিক সাংবাদিকতার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ধরনের দীর্ঘ কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও জনভিত্তিকে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সদরে বিশেষ স্মারক পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে এবং শোকের প্রতীক হিসেবে নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তার দূরদর্শী অর্থনৈতিক নীতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন দলটিকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করে, যার ফলে পরবর্তীতে দলটি একাধিকবার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ করে।

তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টায় নিহত হন তৎকালীন এই রাষ্ট্রপতি। তার সেই আকস্মিক চলে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সেই থেকে প্রতিবছর ৩০ মে তারিখটিকে দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের শাহাদাতবার্ষিকীতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে দলটির চেয়ারম্যানের এই শ্রদ্ধা নিবেদন সমকালীন রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ ও গুরুত্বের বার্তা বহন করছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement