ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ালেন ট্রাম্প

 প্রকাশ: ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন করে কোনো বৈঠকও নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে এবং সেখানে নৌ চলাচল স্বাভাবিক।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা কথাবার্তা হচ্ছে না কিংবা নির্ধারিতও নেই। তিনি আরও জানান, মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি খোলা ও সচল। তার দাবি, পানিতে থাকা সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে অথবা বিস্ফোরিত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য তার অবস্থান পরিবর্তনের আরেকটি উদাহরণ। মাত্র এক দিন আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন চ্যানেলে আলোচনা চলছে। তবে তেহরান তখনই সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনা

ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন হরমুজ প্রণালির দুই তীরবর্তী দেশ ইরান ও ওমান কৌশলগত এই জলপথ পরিচালনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরানকে আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। হরমুজ ইস্যুতে ওমান হস্তক্ষেপ করলে দেশটিতে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ‘ভ্রান্ত ধারণা’ শিগগিরই সংশোধিত হবে, অথবা ইরানই তা সংশোধন করবে।

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

ওই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় করা এবং সব ধরনের হুমকি ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগ

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু করতে মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কাতার মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইরান-ওমান সমঝোতা হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আবার আলোচনায় বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক আলোচনা’ চলছিল। তবে ট্রাম্প এখন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তেহরান চুক্তিতে প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন আলোচনাকারীদের এগোতে নিষেধ করেছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে কোনো বিরোধ নেই।

ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। ছবিটির ওপর লেখা ছিল ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’। গত সপ্তাহে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান আত্মসমর্পণ না করলে হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।

আঞ্চলিক সংঘাতও অব্যাহত

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, শান্তি আলোচনা এবং হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে অগ্রগতি থমকে আছে। এতে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই সাগরে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত।

এর আগে মঙ্গলবার সিরিয়ার ইদলিবের পূর্বাঞ্চলে আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে আটটি বিমান হামলা হয়। এতে ঘাঁটির কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ এসব হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক হামলাটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এগিয়ে নেয় না।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement