আসাদ আমলের পরমাণু কর্মসূচি তদন্তে জাতিসংঘকে সুযোগ সিরিয়ার

 প্রকাশ: ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

আসাদ আমলের পরমাণু কর্মসূচি তদন্তে জাতিসংঘকে সুযোগ সিরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের আমলে পরিচালিত সিরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির অবশিষ্ট অংশ তদন্তে জাতিসংঘকে সুযোগ দিয়েছে দেশটির নতুন সরকার। মঙ্গলবার সিরিয়া জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে কাজ করছে।

এর মধ্যেই জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ জানিয়েছে, দামেস্কের একটি অপ্রকাশিত স্থানে কয়েক টন পরমাণু উপাদান পাওয়া গেছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেছেন, উপাদানগুলো বিপজ্জনক নয় এবং প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তার আওতায় সিরিয়ার হেফাজতেই থাকবে।

সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ গত মাসে ওই স্থানটির বিষয়ে আইএইএকে জানিয়েছিল। আসাদ পরিবারের কয়েক দশকের শাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের শেষ দিকে। এরপর থেকেই দেশটির নতুন কর্তৃপক্ষ সাবেক সরকারের পরমাণু কর্মকাণ্ডের উত্তরাধিকার নিয়ে আইএইএর সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে।

আইএইএর পরিদর্শকেরা দুটি স্থানে গেছেন। সংস্থাটির ও সিরিয়ার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর একটি দেইর আজ-জোরে এবং অন্যটি সম্প্রতি সিরিয়া যে পরমাণু উপাদানের কথা জানিয়েছে, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থান।

সাহসী সিদ্ধান্ত’ বললেন গ্রোসি

দামেস্কে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি অপ্রকাশিত স্থানের বিষয়ে স্বেচ্ছায় তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সিরীয় সরকারের ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, সেখানে কয়েক টন পরমাণু উপাদান রয়েছে, যা অপব্যবহার করা সম্ভব। এসব উপাদান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল-শাইবানি বলেন, গত ১৭ জুলাই তারা আইএইএর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। সেখানে সাবেক সরকারের রেখে যাওয়া কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে একটি অঘোষিত স্থানে পরমাণু উপাদান থাকার বিষয়টি স্বেচ্ছায় জানানো হয়।

সিরিয়ার কাছে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির জন্য ব্যবহারের মতো সক্রিয় মজুত রয়েছে-এমন তথ্য জানা নেই। তবে ২০০৭ সালে ইসরায়েল দেইর আজ-জোরে একটি সন্দেহভাজন সিরীয় পরমাণু চুল্লিতে বোমা হামলা চালিয়েছিল।

নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে আইএইএর এই সহযোগিতা দেশটির সাবেক পরমাণু কর্মকাণ্ডের প্রকৃত পরিধি ও সেখানে থাকা উপাদানের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের পথ আরও উন্মুক্ত করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement