গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ছয়

 প্রকাশ: ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ছয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবারের এই হামলায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো। এমন সময় এ হামলা হলো, যখন গাজায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি চুক্তির প্রচেষ্টা অচলাবস্থায় রয়েছে।

আল-শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, হামলার পর কয়েকটি মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গাজা সিটির বন্দরের কাছে একটি জনাকীর্ণ ক্যাফেতে হামলাটি হয়। এলাকাটি এখন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়শিবির হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় শত্রুতা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

অন্যদিকে হামাসের অবস্থান, ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে সরে গেলেই কেবল তারা অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে রাজি হবে। বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের কয়েকজন কমান্ডারের একটি সমাবেশ। তাদের অভিযোগ, ওই কমান্ডাররা হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি ইসরায়েলি বাহিনী।


হামাস মঙ্গলবারের হামলার পর দেওয়া বিবৃতিতে এটিকে যুদ্ধবিরতির আহ্বানের প্রতি ‘স্পষ্ট অবজ্ঞা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী ও যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তাদানকারী দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করে হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে ক্যাফেতে আশ্রয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রক্তাক্ত মাটিতে কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আশপাশের লোকজন আহতদের দ্রুত কাছের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিচ্ছিলেন।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানান, প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে বন্দরের অনেকে তাঁবু ছেড়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন। এর মধ্যেই হামলাটি হয়।

তিনি বলেন, এসব হামলা কখন ঘটবে, তা আগে থেকে বোঝার উপায় নেই। কোনো সতর্কতা ছাড়াই রাস্তায় হাঁটার সময় কিংবা ক্যাফেতে বসে থাকা অবস্থায়ও হামলা হতে পারে।

শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে অচলাবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার গাজায় যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে মধ্যপ্রাচ্যে সফর শেষ করার এক দিন পর হামলাটি হলো। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রগতি আনতে তার এই সফর হলেও তা সফল হয়নি।

কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর হামাস ও নেতানিয়াহু-দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড় থাকে। ফলে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

অক্টোবরে ইসরায়েলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন হওয়ার কথা। নেতানিয়াহু আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন। জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন জোট পিছিয়ে থাকায় নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অন্তত নির্বাচন পর্যন্ত তিনি পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement