সৌদি শিক্ষায় বড় সংস্কার, বদলাচ্ছে শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নতুন শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে সৌদি আরবে শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষকদের কর্মঘণ্টা স্কুলভেদে নির্ধারণ, নিজ নিজ বিষয়ের বাইরে পাঠদানে নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং ৩৭ হাজার ৫০০ শিক্ষাকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মীর পদোন্নতি।
সোমবার প্রিন্সেস নুরাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন সৌদি শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ আল-বুনইয়ান। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার মান বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও সক্ষম করে তোলাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষকদের জন্য একক নির্দিষ্ট কর্মদিবসের বদলে প্রতিটি স্কুলের দৈনিক সময়সূচি ও পরিচালন পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ পাঠদান, খাতা মূল্যায়ন ও স্কুলে তদারকির মতো নির্ধারিত দায়িত্ব শেষ হলে শিক্ষকরা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন।
শিক্ষকদের উপস্থিতি ও কর্মঘণ্টা পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত ‘হুদুরি’ স্মার্ট অ্যাটেনডেন্স ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, কোনো শিক্ষক তাঁর বিশেষায়িত বিষয়ের বাইরে অন্য বিষয়ে পড়াতে পারবেন না। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
৩৭ হাজার ৫০০ কর্মীর পদোন্নতি
পেশাগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে আগামী মাসে ২৮ হাজারের বেশি শিক্ষাকর্মীকে পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সময়ে প্রশাসনিক পর্যায়ের আরও ৯ হাজার ৫০০ কর্মী পদোন্নতি পাবেন।
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে বড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর ৬০ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
প্রাথমিক শৈশব শিক্ষায় অংশগ্রহণের হারও বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। বর্তমানে ৩৫ শতাংশ থাকা এই হার ২০৩০ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার
২০২৬ সালকে সৌদি আরবে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বছর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত কাজের চাপ কমাতে সৌদি ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্তৃপক্ষ এবং সৌদি এআই কোম্পানি হিউমেইনের সঙ্গে অংশীদারত্বে একটি প্রযুক্তিগত পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
আল-বুনইয়ান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষকদের সহায়তা করবে, যাতে তাঁরা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।
সময়মতো স্কুলে পৌঁছেছে ৩ কোটি ৬০ লাখ বই
এবার শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই স্কুলগুলোতে ৩ কোটি ৬০ লাখের বেশি পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার বই শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সৌদি ডাক বিভাগের সহযোগিতায়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের তিন বছরে সাধারণত শিক্ষাবর্ষ শুরুর দুই সপ্তাহ আগে স্কুলে পাঠ্যবই পৌঁছাত। এবার তাতভির কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করায় গ্রীষ্মের ছুটির আগেই বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের নিয়েও অগ্রগতির কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তাদের শনাক্ত করতে ৪ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ৪৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রতিভাবানদের জন্য বিশেষায়িত স্কুলে ভর্তি হয়েছে।
গত বছর সৌদি আরবের ৭২ জন শিক্ষক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। শিক্ষার্থীরা পেয়েছে ৪০০টির বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। আর সৌদি সরকারের বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭০ শতাংশ বিশ্বের শীর্ষ ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।