সংবাদ শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

 প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার আশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একদিনেই ১০ শতাংশের বেশি নেমে গেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলারে। আগের দিনের ৯১ দশমিক ৬৮ ডলার থেকে দাম কমেছে প্রায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও প্রায় ৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলারে নেমে আসে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে—এমন বার্তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা আপাতত কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

এর আগে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে—এমন উদ্বেগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তবে প্রায় দুই সপ্তাহের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করার ঘোষণা দিলে তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ভালো আলোচনা’ চলছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দেশটি জানিয়েছে।

এদিকে কাজাখস্তানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান পথ রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে অবস্থিত ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন জোটের তেল পরিবহন কেন্দ্র থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল পরিবহন শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কারণ ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির জিজান ও ইয়ানবু এলাকার তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে এখনো সতর্কতা বজায় রয়েছে