ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদে সরানো হলো প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ: সামনে আরও কঠিন সময়ের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল
ক্রমেই ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং দমকা হাওয়ার কারণে
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে
সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দমকল বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মাঠে
কাজ করছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জানিয়েছে, দেশটিতে দাবানলের প্রভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ
আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু শনিবার রাতেই বোর্দোর পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে
প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে গিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলেও কয়েক
দফায় ব্যাপক আকারে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপি ও
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্পেনে দাবানলের কারণে ৭০ হাজারের বেশি
মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা
পরিদর্শনে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক
বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের প্রধান
লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষা এবং বসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে নিরাপদ রাখা। তাপমাত্রা
কিছুটা কমলেও বিপদ এখনো কাটেনি। বাতাসের গতিপ্রকৃতি ও তীব্রতা কী হবে, তা
নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
স্পেন সরকারের মাদ্রিদ অঞ্চলের
প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো মার্তিন জানিয়েছেন, মাদ্রিদ ও আভিলা এলাকায় দাবানলের কারণে
প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো
প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের
দাবানল এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ পশ্চিম ইউরোপজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও
বৃষ্টির ঘাটতি। টানা গরমে বনাঞ্চলের গাছপালা ও ঝোপঝাড় অত্যন্ত শুকিয়ে যাওয়ায়
সামান্য আগুনও মুহূর্তের মধ্যে বড় আকার ধারণ করছে। এর সঙ্গে শুষ্ক বাতাস ও প্রবল
দমকা হাওয়া আগুনের বিস্তার আরও ত্বরান্বিত করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু
পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত জুন মাস ছিল পশ্চিম
ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ জুন। একই সময়ে ফ্রান্স ও স্পেনের বিস্তীর্ণ এলাকায়
স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলমান দাবানল
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।