সংবাদ শিরোনাম

ইউনেস্কোর ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় পশ্চিম তীর, লেবাননের ঐতিহ্যস্থল

 প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইউনেস্কোর ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় পশ্চিম তীর, লেবাননের ঐতিহ্যস্থল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দখলকৃত পশ্চিম তীরের সেবাস্তিয়া এবং দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি ঐতিহাসিক দুর্গকে জরুরি ভিত্তিতে বিশ্ব ঐতিহ্যের বিপন্ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো। ইসরায়েলের আপত্তি সত্ত্বেও শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট কমিটি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে ছয়টি স্থানকে একই সঙ্গে বিশ্ব ঐতিহ্য এবং বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। জরুরি প্রক্রিয়ায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তের আওতায় পশ্চিম তীরের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি দুর্গ স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে একটি দুর্গ সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে গেছে।

পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত সেবাস্তিয়াকে ইতিহাসবিদরা প্রাচীন সামারিয়া হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা বাইবেলীয় ইসরায়েল রাজ্যের রাজধানী ছিল বলে বিবেচিত। এখানে লৌহ যুগ, রোমান, বাইজেন্টাইন ও ইসলামি শাসনামলের নানা প্রত্ননিদর্শন রয়েছে। খ্রিষ্টান ও ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, হজরত ইয়াহইয়া (আ.)-এর সমাধিও এখানে অবস্থিত বলে বিশ্বাস করা হয়।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালে প্রথম এই স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করে। তাদের অভিযোগ, সেবাস্তিয়ার আশপাশের প্রায় ২০০ হেক্টর জমি জাতীয় উদ্যান হিসেবে অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেখানে বেড়া, প্রবেশ ফি এবং শুধু ইসরায়েলিদের জন্য নির্ধারিত একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে, যা স্থানীয় ফিলিস্তিনি পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অন্যদিকে, লেবাননের মাউন্ট আমেল অঞ্চলের পাঁচটি ঐতিহাসিক দুর্গও বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যযুগীয় বউফোর্ট দুর্গ, যা চলতি বছরের মে মাসে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যায়। লেবাননের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে তালিকাভুক্ত দুর্গগুলোর একটি-শামা দুর্গ-ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়েছে এবং বউফোর্ট দুর্গও হুমকির মুখে রয়েছে।

তবে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ বউফোর্ট দুর্গকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল এবং এর নিচে সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। জবাবে লেবাননের প্রতিনিধি বলেন, ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর দুর্গগুলো কেবল পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইউনেস্কো ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ২০১৯ সালে ইউনেস্কো ছেড়ে যায় ইসরায়েল। বর্তমানে দেশটি সংস্থাটিতে কেবল পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ করে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, পশ্চিম তীরের সেবাস্তিয়াকে তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমে ওই ভূখণ্ডের সঙ্গে ইহুদি জাতির ঐতিহাসিক সম্পর্ক মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি বলেন, দখল, বিধিনিষেধ এবং সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার নানা প্রচেষ্টার মধ্যেও সেবাস্তিয়ার বাসিন্দারাই দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক স্থানটি রক্ষা করে আসছেন।

এর আগে চলতি সপ্তাহে লেবাননের প্রাচীন নগরী টাইরকেও ইউনেস্কোর বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে শহরজুড়ে পরিকল্পিতভাবে ভূমি পরিষ্কার ও স্থাপনা ধ্বংসের ধারাবাহিকতার চিত্র উঠে এসেছে।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement