সংবাদ শিরোনাম

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান হিসেবে আবারও নির্বাচিত তুর্ক

 প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান হিসেবে আবারও নির্বাচিত তুর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন অস্ট্রিয়ার আইনজীবী ভলকার তুর্ক। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটে ১৪৪টি সদস্যরাষ্ট্র তাঁর পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১০টি, আর ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। আগামী ১১ অক্টোবর তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি আরও চার বছর দায়িত্ব পালন করবেন।

দ্বিতীয় মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলে ১৯৯৩ সালে এ পদ সৃষ্টি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো কোনো মানবাধিকার হাইকমিশনার টানা দুই মেয়াদ সম্পন্ন করবেন। তাঁর পুনর্নিয়োগের বিপক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াও রয়েছে।

পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তুর্ক বলেন, পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁর ভাষায়, বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা ও হতাশার বিরুদ্ধে মানবাধিকারই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধক এবং বিশ্বের প্রতিটি মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

ইসরায়েলের গাজা অভিযান, লেবাননে হামলা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহির অভাব নিয়ে তুর্ক ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার জন্য তিনি বহুবার ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রটির জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

পেশায় আইনজীবী তুর্ক দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রায় পুরোটাই জাতিসংঘে কাটিয়েছেন। বিশেষ করে শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তিনি কাজ করেছেন।

তাঁর পুনর্নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে তুর্কের কার্যালয়ের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখতে তারা আগ্রহী।

অন্যদিকে তুর্কের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাঁর নেতৃত্বে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর ৭ অক্টোবরের হামলার নৃশংসতাকে উপেক্ষা করেছে, অর্থের অপব্যবহার করেছে এবং নিরপেক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে।

তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যাসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও জাতিসংঘের একাধিক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ।

জাতিসংঘে ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেফ বার্টোস বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বহু বছর ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং তুর্কের নেতৃত্বে তা চূড়ান্ত সংকটে পৌঁছেছে।

এদিকে তুর্কের দ্বিতীয় মেয়াদের ভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর আগে তিনি আঞ্চলিক গ্রুপগুলোর কাছে চিঠি দিয়ে তুর্ককে পুনর্নিয়োগের ইচ্ছার কথা জানান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভোট আয়োজন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই ভোটকে জাতিসংঘের ‘অন্তর্নিহিত দুর্নীতি ও অদক্ষতার’ আরেকটি উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছে। তাদের অভিযোগ, তুর্ক প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো উপেক্ষা করে একটি ‘চরমপন্থী আদর্শিক কর্মসূচি’ অনুসরণ করেছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement