সংবাদ শিরোনাম

ইসরায়েলের স্বীকৃতি ছাড়া সৌদি পরমাণু চুক্তি নয়: ট্রাম্প

 প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের স্বীকৃতি ছাড়া সৌদি পরমাণু চুক্তি নয়: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট করে বলেছেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে ওয়াশিংটন রিয়াদের সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর করবে না। তাঁর ভাষায়, সৌদি আরবের এখন ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়ার সময় এসেছে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ এ সপ্তাহের শুরুতে যে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে, তাতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত উল্লেখ না থাকলেও এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি কার্যকর করতে হলে তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সদস্য হতে হবে। এটি অত্যন্ত সফল একটি উদ্যোগ। এখন তাদের যোগ দেওয়ার সময় এসেছে।’

এর আগে বুধবার ওয়াশিংটন ও রিয়াদ সৌদি আরবে একটি বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহযোগিতা চুক্তিতে সই করে। তবে পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, চুক্তি এগিয়ে নিতে হলে সৌদি আরবকে আগে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। শুক্রবারও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্রাম্পের দাবি, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি এ বিষয়ে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করেননি। তবে বিষয়টি শুরু থেকেই সবার জানা ছিল এবং সৌদি আরবও এ শর্ত সম্পর্কে অবগত ছিল।

ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যের পর সৌদি আরব আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই রিয়াদের অবস্থান, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না। অন্যদিকে ইসরায়েলের বর্তমান সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দৃঢ় বিরোধিতা করে আসছে।

চুক্তি ঘোষণার সময় ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব-উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরলেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি উল্লেখ করেনি।

জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে, দেশে সমৃদ্ধি বাড়াবে এবং মিত্রদের নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্ব, যা এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আওতায় সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে। যদিও পরে ট্রাম্প বলেন, এই প্রকল্পে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হবে না।

প্রত্যাশিত এ চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে বেসামরিক পরমাণু প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা সরবরাহ করবে। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সহযোগিতা জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার বলেন, এই চুক্তির ফলে পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হবে না। কারণ প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকাদারদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে, ফলে ওয়াশিংটনের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। মার্কিন পরমাণু চুল্লি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউসকে এ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement