সংবাদ শিরোনাম

পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্টের নোটিশ, ১১০ ভিডিও উপস্থাপনের দাবি

 প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্টের নোটিশ, ১১০ ভিডিও উপস্থাপনের দাবি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সংসদ অভিমুখে শান্তিপূর্ণ মিছিলরত বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত ও নির্মম বলপ্রয়োগের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট দিল্লি পুলিশ ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ জারি করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ও অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলার শুনানিকালে আবেদনকারীদের আইনজীবী এবং কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস রাজুর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিক্ষোভ দমনের সময় নারী বিক্ষোভকারীদের শ্লীলতাহানির পাশাপাশি তাদের গোপনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছে। এমনকি পেরেকযুক্ত লাঠি ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়। আইনজীবীরা জানান, এসব অভিযোগের সমর্থনে তাদের কাছে ১১০টি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়, অভিযানে অংশ নেওয়া অনেক পুলিশ সদস্যের ইউনিফর্মে পরিচয় শনাক্তকারী ব্যাজও ছিল না।

সিনিয়র আইনজীবী এন হরিহরণ ও বিকাশ সিং আদালতে বলেন, সংবিধানস্বীকৃত শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকার প্রয়োগ করছিলেন বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু তাদের ওপর যে ধরনের শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস ও অগ্রহণযোগ্য। তাদের দাবি, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৯০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা আরও বাড়ছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস রাজু আদালতে বলেন, আবেদনকারীদের অভিযোগ মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ওপর নির্ভরশীল। তার ভাষ্য, অনেক সময় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয় এবং কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী এ ধরনের পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।

তিনি আরও দাবি করেন, মামলাটি জনদৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়া কীভাবে একটি আবেদনকে প্রচারমুখী বলা যায়। তিনি মন্তব্য করেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন ছিল কি না, সেটিও এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যদি সমাবেশটি বেআইনি হয়ে থাকে, তবে তা মোকাবিলার জন্য আইনসম্মত নির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, উপস্থাপিত ভিডিওগুলোর সত্যতা এই মুহূর্তে যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারকে বিস্তারিত জবাব দাখিল করতে হবে।

পরিশেষে আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ জারি করেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সিসিটিভি ও অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisement
Advertisement
Advertisement