যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভোলার নয়’ হুঁশিয়ারি দিলেন খামেনি নেতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে ‘ভোলার নয়’ এমন জবাব পেতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই এবং ‘বুলিং’ বা শক্তি প্রদর্শনই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বার্তায় খামেনির এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) যুক্তরাষ্ট্র বারবার লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষায়, এতে আবারও প্রমাণ হয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অকার্যকর’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মহাশয়তান’ যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভঙ্গ করে দেখিয়ে দিয়েছে যে আধিপত্যবাদ, জবরদস্তি এবং আগ্রাসনই তাদের নীতির অংশ। যদি যুক্তরাষ্ট্র আরও যুদ্ধ উসকে দিতে চায় এবং আরও বেশি ক্ষতি ও অপমান ডেকে আনতে চায়, তবে ইরান ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ তাকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কোনোদিন ভুলবে না।
সংবাদে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে সেতু, রেলপথ ও পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এর জবাবে ইরান কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামোতে সফল হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর কুয়েতের কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি চাপের মুখেও তেহরান কোনো ধরনের নতি স্বীকারের ইঙ্গিত দেয়নি। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ পর্দার আড়ালে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
খামেনি তার বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বস্ততা ও কু-অভিপ্রায়ের’ অভিযোগ তুলে বলেন, ওয়াশিংটন তার ‘আসল চেহারা’ প্রকাশ করেছে। তিনি দেশবাসীকে নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং চলমান সংঘাতের মধ্যে সবাইকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন।
এদিকে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এমন খবরও সামনে এসেছে যে ইয়েমেনের হুথিরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইরানের সমর্থনে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে, মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সামরিক অভিযান বন্ধের চাপ আরও তীব্র হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করা। তবে পরবর্তীতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনে সেই সমঝোতাকে কার্যত অকার্যকর বলে ঘোষণা করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা