সংবাদ শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এফ-৩৫ বিরোধ নিষ্পত্তির আশায় তুরস্ক

 প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এফ-৩৫ বিরোধ নিষ্পত্তির আশায় তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাৎসা (CAATSA) নিষেধাজ্ঞা এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় তুরস্ক এখন অনেক বেশি আশাবাদী। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত লেভেন্ট গুমরুকচু।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আটলান্টিক কাউন্সিলের তুরস্ক কর্মসূচির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত অচলাবস্থা নিরসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে আঙ্কারা ও ওয়াশিংটন একটি যৌথ রাজনৈতিক ও সামরিক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে।

গুমরুকচু বলেন, “এবার আমরা সত্যিই মনে করছি, সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আশা করছি, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে অতীতের বিষয় হিসেবে রেখে যেতে পারব।”

তবে সম্ভাব্য সমঝোতার শর্ত বা কবে চুক্তি হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপটি এমন কয়েকটি সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে কাজ করেছে, যা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করবে, অন্যদিকে তুরস্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও রক্ষা করবে।

তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত প্রয়োজনীয়তা এবং তুরস্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনার মধ্যে ভারসাম্য আনার জন্য বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখা হয়েছে।

গুমরুকচু বলেন, দুই ন্যাটো মিত্রের মধ্যে সমঝোতা হলে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে-এ বিষয়ে আঙ্কারার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। গত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ওপর এমন বিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আলোচনা শুধু তুরস্কের এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার পথ তৈরির লক্ষ্যেও আলোচনা এগোচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাৎসা নিষেধাজ্ঞা এবং এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গত কয়েক বছর ধরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় হয়ে রয়েছে।

২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার প্রসঙ্গে গুমরুকচু বলেন, মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা না পাওয়ায় তুরস্ক তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে বাধ্য হয়ে এই ব্যবস্থা কিনেছিল।

তিনি বলেন, “তাৎক্ষণিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করতেই এস-৪০০ কিনতে হয়েছিল। তবে কেনার পরপরই আমরা মিত্রদের জানিয়েছি, এটি এককালীন ক্রয়। এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতির অংশ নয়।”

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের গ্রিক বংশোদ্ভূত কয়েকজন সদস্য এবং গ্রিসের আপত্তির বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে গুমরুকচু বলেন, এ ধরনের অবস্থান অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্ক ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রিস যখন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে, তখন তুরস্ক কখনো আপত্তি তোলেনি।

তার মতে, একই জোটের সদস্য হিসেবে মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়লে তাতে তুরস্ক বরং সন্তুষ্টই হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement