চীন ডেইলির বর্ণবাদী ভিডিওতে ক্ষুব্ধ ফিলিপাইন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চীনের রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদপত্র চায়না ডেইলি প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে ফিলিপিনোদের ‘বানর’ হিসেবে উপস্থাপন করায় বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিপাইন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী, অবমাননাকর ও অমানবিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এসব ভিডিও রাজনৈতিক মতবিরোধের সীমা অতিক্রম করেছে। এতে ফিলিপিনো জনগণকে হেয়, অমানবিক এবং বর্ণবাদীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি মারিয়া থেরেসা লাজারো বিষয়টি সরাসরি দেশটিতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্রও জমা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বেইজিংয়ে ফিলিপাইন দূতাবাস চায়না ডেইলি-র সম্পাদককে উদ্দেশ করে একটি উন্মুক্ত চিঠি প্রকাশ করেছে। সেখানে সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে সম্পাদকীয় নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জনপরিসরে মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিজেদের চীনের সর্বাধিক পঠিত ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়া চায়না ডেইলির দাবি, তাদের সম্মিলিত পাঠকসংখ্যা ৪৭ কোটির বেশি। ফেসবুকে সংবাদমাধ্যমটির অনুসারী ১১ কোটিরও বেশি, যেখানে বিতর্কিত ভিডিওগুলো প্রকাশ করা হয়।
ভিডিওগুলো প্রকাশ করা হয় ২০১৬ সালের দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়ক আন্তর্জাতিক সালিসি ট্রাইব্যুনালের রায়ের দশম বার্ষিকী উপলক্ষে। ওই রায়ে ফিলিপাইনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছিল, দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ জলসীমার ওপর চীনের ব্যাপক সার্বভৌমত্ব দাবি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে বৈধ নয়।
তবে বেইজিং শুরু থেকেই ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ এলাকার ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি অব্যাহত রেখেছে। এ বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও স্কারবরো শোল, যেগুলোর মালিকানা নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দক্ষিণ চীন সাগরে আনুমানিক ১ হাজার ১০০ কোটি ব্যারেল অনাবিষ্কৃত তেল এবং ১৯০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
সার্বভৌমত্বের এ বিরোধকে ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের কোস্টগার্ডের জাহাজ এবং ফিলিপাইনের নৌযানের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিপাইনের অভিযোগ, চীনা জাহাজগুলো পানি নিক্ষেপকারী কামান ব্যবহার এবং ধাক্কা দিয়ে তাদের নৌযান ও জেলেদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান এবং যুক্তরাজ্যসহ ফিলিপাইনের মিত্র দেশগুলো বারবার ২০১৬ সালের সালিসি রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। চলতি মাসে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো ট্রাইব্যুনালের রায়কে ‘চূড়ান্ত’ ও ‘আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক’ উল্লেখ করে বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তিমূলক একতরফা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়, যাতে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ পর্যন্ত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা চায়না ডেইলি ফিলিপাইনের কূটনৈতিক প্রতিবাদের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্র:আলজাজিরা