সংবাদ শিরোনাম

ইরানের দ্বীপ দখলে নামবে কি যুক্তরাষ্ট্র

 প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরানের দ্বীপ দখলে নামবে কি যুক্তরাষ্ট্র


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র কি এবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে?সামরিকভাবে সম্ভব হলেও এমন পদক্ষেপ বড় ধরনের ঝুঁকি, খরচ ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সম্প্রতি কেশম, কিশ ও আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর বান্দার আব্বাসেও হামলা হয়েছে।

এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে-ওয়াশিংটন কি ইরানের ভূখণ্ড দখলের পথে যাচ্ছে?

মার্চ মাসে যুদ্ধ শুরুর এক মাস পর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-কে দেওয়া বক্তব্যে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের খার্গ দ্বীপে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। এই দ্বীপ দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। তবে ১৭ জুন দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর এ ধরনের আলোচনা কিছুটা থেমে যায়।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইরানের দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রকাশ করলে তা “বোকামি” হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ছোট কোনো দ্বীপ সামরিকভাবে দখল করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে শক্তিশালী নৌ, বিমান ও স্থল সক্ষমতা।

তবে কোনো দ্বীপ দখল করা আর সেটি দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা এক বিষয় নয়। কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, দ্বীপ দখলের পর সেখানে সেনা রাখা, রসদ সরবরাহ করা এবং ইরানের হামলা মোকাবিলা করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

তিনি বলেন, কেশম দ্বীপ বিশেষভাবে কঠিন লক্ষ্য, কারণ এটি ইরানের মূল ভূখণ্ডের খুব কাছে। ছোট দ্বীপগুলো দখল করা তুলনামূলক সহজ হলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযানের হামলার ঝুঁকি থাকবে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এমন অভিযানে শুরুতেই ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার সেনা প্রয়োজন হতে পারে। তবে একাধিক দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে এই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাদের হাসেমি বলেন, খার্গসহ ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ দখলের বিষয়ে তিনি খুবই সন্দিহান। কারণ এতে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি, বিপুল অর্থ ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্বীপ দখল করলেও ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সক্ষমতা হারাবে না। মূল ভূখণ্ড থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেই তারা জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে পারে।

তাদের মতে, ইরানের সমুদ্রপথ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু দ্বীপ নয়, দক্ষিণ উপকূলের বড় অংশে অভিযান চালাতে হবে। আর সেটি হলে ছোট সামরিক অভিযান নয়, বরং বড় ধরনের স্থলযুদ্ধের সূচনা হতে পারে।

ফলে ইরানের দ্বীপ দখল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি শক্তির প্রদর্শন হতে পারে, কিন্তু এর পরিণতি হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং বড় সামরিক ব্যয়।

সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement