সংবাদ শিরোনাম

ট্রাম্পের নির্বাচনী চাপ আরও জোরালো করলেন মুলিন

 প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নির্বাচনী চাপ আরও জোরালো করলেন মুলিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে যেসব দাবি তুলেছেন, সেগুলো বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচন-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং তা কার্যকরে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা হবে।

শুক্রবার দেওয়া এক বক্তব্যে মুলিন মূলত আগের দিন ট্রাম্পের ভাষণের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এটি ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নয়; বরং কী ঘটেছিল তা সামনে আনা এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।

মুলিনের দাবি, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বা দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ট্রাম্প প্রশাসনের তাৎক্ষণিক নজরে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি ও নেভাডা। মুলিনের দাবি, এই চার অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকায় প্রায় আড়াই লাখ অ-নাগরিকের নাম রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

তিনি আরও বলেন, সারা দেশে প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার বিদেশি নাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন। তবে প্রশাসন কীভাবে এই তথ্য পেয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকলেই কেউ ভোট দিতে পেরেছেন-এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন যোগ্যতা যাচাই করা হয় এবং অ-নাগরিকের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৬ সালের নির্বাচনে পর্যালোচিত ৪২টি এলাকায় মোট প্রদত্ত ভোটের মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য শূন্য এক শতাংশ অ-নাগরিকের ভোট ছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছেন। ২০১৬ সালে তিনি ইলেক্টোরাল কলেজে জয়ী হলেও জনপ্রিয় ভোটে হেরে যান। পরে তিনি দাবি করেছিলেন, লাখো মানুষ অবৈধভাবে ভোট দেওয়ায় এমন ফল হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগেরও কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মুলিন সতর্ক করে বলেন, যেসব অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে না, তারা ফেডারেল অনুদান বা নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে।

তার ভাষ্য, ফেডারেল নির্বাচনের জন্য অনুদান বা ব্যয় ফেরত চাইলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোকে নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে ভোটিং মেশিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও যাচাই করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ট্রাম্প বহুদিন ধরেই ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং কাগুজে ব্যালটে ফেরার পক্ষে মত দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ডাকযোগে ভোট গ্রহণের ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপের আহ্বান জানিয়ে আসছেন, যদিও তিনি নিজেও ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা কেন্দ্রীয়ভাবে সংগ্রহের চেষ্টা করলেও ফেডারেল আদালত একাধিকবার সেই উদ্যোগে বাধা দিয়েছে। এছাড়া ভোটার তথ্য যাচাইয়ে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা সিস্টেমেটিক এলিয়েন ভেরিফিকেশন ফর এনটাইটেলমেন্টস (সেভ) ডেটাবেস বিদেশে জন্ম নেওয়া অনেক মার্কিন নাগরিককে ভুলভাবে অ-নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে বলে সমালোচনা রয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করে, কোথাও অ-নাগরিক ভোটার শনাক্ত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সেই ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

মুলিনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন হয় এবং তা রক্ষায় অঙ্গরাজ্য সব ধরনের আইনি লড়াইয়ে প্রস্তুত।

এদিকে, ট্রাম্পের নির্বাচনী নিরাপত্তাবিষয়ক ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করায় এবিসি, এনবিসি ও সিএনএনসহ কয়েকটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কেরও সমালোচনা করেন মুলিন। তার অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম জনগণকে তথ্য জানাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা কী আড়াল করতে চাইছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এর আগে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম নির্বাচনী জালিয়াতি আড়াল করার ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এমন আচরণের জন্য তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল হওয়া উচিত।

তবে ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) একমাত্র ডেমোক্র্যাট কমিশনার আনা গোমেজ ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কোনো সম্প্রচারমাধ্যম রাজনৈতিক ভাষণ প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিলে তাদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা এফসিসির নেই। এটি সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিস্তৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement