সংবাদ শিরোনাম

ইরাকের তেলচুক্তিতে সিরিয়া পাইপলাইন পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ

 প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

ইরাকের তেলচুক্তিতে সিরিয়া পাইপলাইন পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় পশ্চিমা জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কয়েক ডজন সমঝোতা ও প্রাথমিক চুক্তি করেছে ইরাক সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো উত্তর ইরাকের তেলসমৃদ্ধ কিরকুক থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াস পর্যন্ত দীর্ঘদিন অচল থাকা অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন পুনর্গঠন। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প রপ্তানি পথ গড়ে তুলতে চায় বাগদাদ।

শুক্রবার(১৭ জুলাই) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক বিজনেস সামিটে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প জ্বালানি করিডোর তৈরির উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইরাক।

ইরাক ও সিরিয়া একটি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় কিরকুক-টু-বানিয়াস পাইপলাইন পুনর্নির্মাণে সম্মত হয়েছে। ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি শেভরন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, পাইপলাইন পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে তারা স্বাগত জানাচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক দিক বাস্তবায়ন করবে। পুনর্নির্মাণ শেষে পাইপলাইনটির প্রাথমিক পরিবহন সক্ষমতা হবে প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। এতে ইরাকের তেল ভূমধ্যসাগরীয় বাজারসহ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর তৈরি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কবিষয়ক রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক বলেন, নতুন পাইপলাইন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এমন একটি জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে উঠবে, যেখানে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে।

সিরিয়া পাইপলাইন প্রকল্প ছাড়াও শেভরন ইরাকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও দুটি চুক্তি করেছে বলে কোম্পানিটির করপোরেট বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান জেক স্পিয়ারিং জানিয়েছেন।

এদিকে, ইরাক সরকার ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিংকের সঙ্গে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা চালুর একটি সরকারি চুক্তিও সই করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইরাকি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তিগুলোর সম্ভাব্য মূল্য ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

সামিটে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেন, তাঁর সরকার উন্মুক্ত বিনিয়োগনীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, যারই কোনো প্রকল্প থাকবে, তিনি ইরাকে এসে তা উপস্থাপন করতে পারবেন। বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার কোনো অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করবে না।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement