কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় নতুন শুল্ক হুমকি ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরের বায়ুমান মারাত্মকভাবে অবনতি হওয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, বন ও ঝোপঝাড়ের যথাযথ ব্যবস্থাপনায় কানাডার ব্যর্থতার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে দূষিত ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ বাতাসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ট্রাম্প লেখেন, কানাডা তাদের বন ও ঝোপঝাড় সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র “অপ্রয়োজনীয়ভাবে দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাসের আগ্রাসনের” শিকার হচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন এবং এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তা কানাডার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে যোগ করা হবে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই কানাডার ওপর বাণিজ্যিক চাপ বাড়িয়ে আসছেন ট্রাম্প। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং তাঁর ভাষায় ‘অন্যায্য’ বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনের দাবিতে তিনি একাধিকবার শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এমনকি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের “৫১তম অঙ্গরাজ্য” হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে ৮৯৬টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি আগুন অন্টারিও প্রদেশে জ্বলছে এবং ৮১টি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সম্প্রতি ওয়াবাকিমি প্রাদেশিক উদ্যানে কয়েকটি ছোট আগুন একত্র হয়ে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় দাবানলের সৃষ্টি করে। এতে কয়েকটি ফার্স্ট নেশনস সম্প্রদায়ের বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড শুক্রবার জানান, অন্তত ১০টি সম্প্রদায় থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি কানাডার অন্যান্য অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ও মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যসহ সহায়তাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, উত্তর আমেরিকায় দাবানল বেড়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং খরা। পাশাপাশি কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন প্রাকৃতিকভাবে আগুন লাগার প্রক্রিয়া দমন করায় বনভূমিতে অতিরিক্ত দাহ্য উপাদান জমে থাকাও বড় দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এছাড়া বনাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে।
তবে ট্রাম্প বরাবরের মতোই দাবানলের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের সময়ও তিনি গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিকে দায়ী করেছিলেন। সে সময় বিশেষজ্ঞরা তাঁর অভিযোগের বাস্তবভিত্তিক কোনো প্রমাণ পাননি। প্রথম মেয়াদেও তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বনভূমির মাটিতে পড়ে থাকা শুকনো পাতা ও ডালপালা নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।
সাম্প্রতিক দাবানল নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন মিশিগানের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান বিল হুইজেঙ্গা। তাঁর দাবি, কানাডার দাবানল নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য, জীবনযাত্রা এবং অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে দাবানলের ঘন ধোঁয়ায় নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেও সমালোচনার মুখে পড়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন দাবানলসংক্রান্ত গবেষণায় বরাদ্দ কমিয়েছে। এর মধ্যে দাবানলের ধোঁয়া মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে কাজ করা গবেষণাগারগুলোর অর্থায়নও কমানো হয়েছে।
সূত্র:আলজাজিরা