সংবাদ শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে তেলের বাজারে নতুন শঙ্কা

 প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে তেলের বাজারে নতুন শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) সতর্ক করেছে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা বড় ধাক্কা খেতে পারে। তবে সংঘাতের মধ্যেও পর্দার আড়ালে নতুন করে যুদ্ধবিরতি ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত IEA-এর সর্বশেষ তেলবাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ২০২০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বে তেলের চাহিদা কমার পথে রয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সমঝোতা স্মারকের (MoU) পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই ইতিবাচক পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। IEA জানিয়েছে, কার্যত প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঘাটতি ও দাম বেড়ে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমঝোতা স্মারকের পর জুন মাসে হরমুজ প্রণালি আংশিক চালু হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ প্রতিদিন ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থার তুলনায় সরবরাহ এখনো প্রতিদিন ৯৪ লাখ ব্যারেল কম। IEA আগে ধারণা দিয়েছিল, হরমুজ পুরোপুরি সচল হলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিদিন ৪৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেলের উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। কিন্তু নতুন সংঘাত সেই পূর্বাভাসকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এদিকে হামলা কিছুটা কমে আসায় আবারও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা চললেও প্রয়োজন হলে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ৩৭ ডলারে স্থিতিশীল থাকলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা ৪ ডলারের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তেলের দামে আরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।

সূত্র:আলজাজিরা

Advertisement
Advertisement
Advertisement