দামেস্কে বিস্ফোরণ, তবু থামেনি সিরিয়ার জীবন
আন্তর্জাতিক সংবাদ: সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে এক সপ্তাহে তিনটি বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হামলার পরও শহরের দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি থেমে যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করা, পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে—এমন বার্তা দেওয়া নয়।
২ জুলাই দামেস্কের জাস্টিস প্যালেসের কাছে একটি ক্যাফেতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হন। এরপর ৭ জুলাই ফোর সিজনস হোটেলের কাছে আরও দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সিরিয়া সফরে হোটেলটিতে অবস্থান করছিলেন। এ হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হন।
বৃহস্পতিবার রাতে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব জানান, ৭ জুলাইয়ের হামলার সঙ্গে জড়িত আইএসআইএল (আইএস) সংশ্লিষ্ট একটি সেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়ে রাজধানীর মানুষের মধ্যে ভয় ও অস্থিরতা তৈরি করাই ছিল হামলাকারীদের উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়া এখনও অর্থনৈতিক সংকট, দুর্বল অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে গত দেড় বছরে দামেস্কে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে। এ সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী আইএস-সংশ্লিষ্ট অনেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এবং একাধিক হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে।
তবু সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের পরও দামেস্কের রাস্তাঘাটে স্বাভাবিক চলাচল দেখা গেছে। মানুষ কাজে যাচ্ছে, যানবাহন চলছে, পার্কে আড্ডাও চলছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাফের মালিক মোহাম্মদ আল-দাহাবি জানান, ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের কাজ শেষ করে শনিবারই আবার ক্যাফে খুলতে চান। তাঁর ভাষায়, “ইনশাআল্লাহ, আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরব।” সূত্র: আলজাজিরা