ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধে নতুন মোড়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার টানা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে ইউক্রেনের জন্য বড় বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশেই উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব তাৎক্ষণিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি শেখাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত থেকে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হবে না। ইউক্রেন জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব দেশে উৎপাদন শুরু করার চেষ্টা করবে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো ব্যবস্থা নয়, শুরুতে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনই বাস্তবসম্মত হতে পারে।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত বদলে যাচ্ছে লড়াইয়ের ধরন। ইউক্রেন এখন ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটের ব্যবহার বাড়িয়েছে। ছোট ছোট ড্রোন দিয়ে রুশ সেনাদের খুঁজে বের করে হামলা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থল রোবট খাবার, গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়া, আহত সেনাদের সরিয়ে আনা এবং শত্রুর অবস্থানে হামলার মতো কাজ করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই যুদ্ধ ভবিষ্যতের যুদ্ধের নতুন চিত্র তুলে ধরছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। সম্প্রতি সাইবেরিয়ার ওমস্ক শহরের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে হামলার পর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ইউক্রেনের দাবি, আকাশপথে তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম। তবে সাবেক ইউক্রেনীয় সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি সতর্ক করে বলেছেন, শুধু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দিয়ে এই যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় সম্ভব নয়, কারণ রাশিয়ারও পাল্টা আঘাত হানার শক্তি রয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার সর্বশেষ হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত হন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতির আলোচনার নতুন কৌশল ভাবতে উৎসাহিত করেছে। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো শান্তি আলোচনায় ছাড় দেওয়ার অবস্থানে নেই। সূত্র: আলজাজিরা